রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দিচ্ছে মহারাষ্ট্র

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে শুক্রবার এ ঘোষণা দেন। এমন উদ্যোগ নেয়া দেশটির এটিই প্রথম রাজ্য।

মহারাষ্ট্র দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার জলনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজেশ টোপে বলেন, রাজ্যের জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশই মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে জন আরোগ্য যোজনা (এমজেপিজেএওওয়াই) এর আওতায় ছিল। এখন বাকি ১৫ শতাংশকেও এই প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

এর ফলে নাগরিকরা বিনামূল্যে এবং নগদহীন স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। প্রকল্পে আবেদনের জন্য রেশন কার্ড এবং আবাসিক শংসাপত্রের মতো নথিগুলোর প্রয়োজন হবে। রাজ্যের সরকারী ও আধা-সরকারী কর্মচারী এবং সাদা রেশন কার্ডধারীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে জানান, বেসরকারী হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার পুনে ও মুম্বাইয়ের জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পাবলিক সেক্টর অ্যাসোসিয়েশনের (জিআইপিএস) সাথে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে।

একইভাবে সমস্ত হাসপাতালে চিকিৎসা ফি নিয়ন্ত্রণের জন্য সব রোগের জন্য পৃতক প্যাকেজ তৈরি করা হবে। আগে ৪৯৬টি হাসপাতাল এই প্রকল্পের আওতাধীন ছিল, তবে এখন এক হাজারেরও বেশি হাসপাতাল এর আওতায় আসবে বলে জানান রাজেশ টোপে।

মন্ত্রী বলেন, অতিমাত্রার ফি নেয়া নিষিদ্ধ করে রাজ্য সরকার ‘বিপর্যয় মোকাবিলা আইন’ ও ‘মহামারি আইন’ অনুযায়ী বেসরকারী হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার খরচ বেঁধে দিয়েছে। এ ছাড়াও যেসব হাসপাতাল জিআইপিএসএ’র সাথে সংযুক্ত নয় তাদের চিকিৎসার ফিও মানসম্মত করতে হবে।

ভারতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্য মহারাষ্ট্র, এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৪১ জন করোন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫৮৩ জন মৃত্যুবরণ করেছে। এই ভাইরাসের বিস্তার কমাতে দেশব্যাপী লকডাউন ১৭ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে ভারত। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ১৩৮ সংক্রমিত হয়েছে এবং ১ হাজার ৫৬৮ জন মৃত্যুবরণ করেছে।