ভারতে বাজারভিত্তিক মুনাফার সঙ্গে নতুন সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

মাসরুক খান: ভারতের জীবন বীমা খাতে নতুন ধরনের সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু করেছে আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ‘আইসিআইসিআই প্রু সিগনেচার সিকিউর’ নামে এ পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে গ্রাহক একদিকে শেয়ারবাজারভিত্তিক মুনাফার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে নির্দিষ্ট ন্যূনতম অর্

মাসরুক খান: ভারতের জীবন বীমা খাতে নতুন ধরনের সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু করেছে আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ‘আইসিআইসিআই প্রু সিগনেচার সিকিউর’ নামে এ পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে গ্রাহক একদিকে শেয়ারবাজারভিত্তিক মুনাফার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে নির্দিষ্ট ন্যূনতম অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তাও থাকবে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ভারতের প্রথম এমন জীবন বীমা-সংশ্লিষ্ট সঞ্চয় প্রকল্প, যেখানে বিনিয়োগের ফল বাজারের অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলেও মেয়াদ শেষে গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনাটিতে এককালীন অর্থ জমা দিতে হবে এবং এর মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে গ্রাহক প্রকৃত বিনিয়োগমূল্য অথবা পূর্বনির্ধারিত ন্যূনতম প্রাপ্যের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেটিই পাবেন। এই ন্যূনতম প্রাপ্য অর্থ জমাকৃত মূল অর্থের সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক বাজারের ওঠানামার সময়ে এমন ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ পরিকল্পনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এতে অর্থ বিনিয়োগ কিংবা হিসাব পরিচালনার জন্য কোনো অতিরিক্ত প্রশাসনিক ফি নেওয়া হবে না। ফলে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের বড় অংশই বিনিয়োগে ব্যবহৃত হবে।

সঞ্চয়ের পাশাপাশি এতে জীবন বীমা সুরক্ষাও রয়েছে। পরিকল্পনার মেয়াদকালে গ্রাহকের মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা পাবেন।

আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পণ্য বিভাগের প্রধান বিকাশ গুপ্তা বলেন, প্রচলিত স্থায়ী আমানত বা বন্ডের তুলনায় এ পরিকল্পনা কর-পরবর্তী পর্যায়ে অধিক সুবিধাজনক আয় দিতে সক্ষম।

ভারতের বিদ্যমান কর আইনের আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এ ধরনের পরিকল্পনা থেকে প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত সুবিধাও পেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যেসব ব্যক্তি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ চান না, আবার পুরোপুরি বাজারনির্ভর অনিশ্চয়তাও গ্রহণ করতে চান না, তাদের জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যয়, বাড়ি কেনা কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ের মতো লক্ষ্য পূরণেও এটি সহায়ক হতে পারে।

ভারতের জীবন বীমা খাত বর্তমানে দ্রুত সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল সেবার বিস্তার, আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন বীমা ও বিনিয়োগপণ্য বাজারে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারভিত্তিক মুনাফার সম্ভাবনা ও ন্যূনতম অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তার সমন্বয় ভবিষ্যতে এ ধরনের পণ্যের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে পারে। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল বাজার পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট তহবিলের কর্মদক্ষতার ওপরও নির্ভর করবে।

 

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।