বাংলাদেশের বীমা শিল্পের বর্তমান অবস্থা: বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান- ৫ম অংশ

শেখ কবির হোসেন: আপনাকে ধন্যবাদ। আমি এরপরে অনুরোধ করবো আমাদের নাসির ভাই, নাসির এ চৌধুরী, প্রাক্তন চেয়্যারম্যান বিআইএ। আপনার তো অভিজ্ঞতা অনেক। এই অভিজ্ঞতার উপরে সমাধানের কথাগুলো বলেন।

নাসির এ চৌধুরী: আসসালামু আলাইকুম।অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সভাপতি সাহেবকে এবং আমাদের আইডিআরএ চেয়ারম্যান এবং সদস্যবৃন্দ। এখানে আমাদের বীমা শিল্পের, বাংলাদেশের বীমা কোম্পানির সবাই এখানে আসছেন। আইডিআরএ হওয়ার আগে কন্ট্রোলার অব ইন্স্যুরেন্স, কন্ট্রোলার থেকে চীফ কন্ট্রোলার। তারপরে আইডিআরএ হয়েছে। আইডিআরএ ডেভেলপমেন্ট এবং রেগুলেটরি অথরিটি তারা। 

উই আর ভেরি লাকি টু হ্যাভ দ্য প্রেজেন্ট চেয়ারম্যান। উনি ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রিতে সেক্রেটারি ছিলেন। এখন এইখানে আসছেন। আমাদের যে সমস্তু সমস্যা আছে সব কিছুই ওনার দ্বারা সমাধান হবার যথেষ্ট অপারচিউনিটি আছে আমাদের। এবং হি ইজ একচ্যুয়ালি এ নাইস ম্যান এন্ড হিজ ডুর ইজ ওপেন ফর এভরিবডি।

আমি যখনই যাই আইডিআরএ অফিসে, আমি সুযোগ পাইলেই যাই। আরাম পাই ওনার সঙ্গে কথা বলতে গেলে। দেখি সব সময়ই ওই বীমা কোম্পানির লোকজন আসতেছে যাচ্ছে। এন্ড হিজ ডুরস সার্ভ ওপেন। আমি বলব যে, এই যে অপারচিউনিটি আমরা এখন পেয়েছি, এটা ভবিষ্যতে নাও পেতে পারি। এর জন্য আমাদের যে সমস্তু সমস্যা আছে, সমস্ত সমাধান ওনার সময়ই যদি করতে পারি আমরা লাভবান হবো।

ইন্স্যুরেন্সে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যে, আমি নিজে অফিসে ১০টা-৬টা অফিস করি সপ্তাহে ৫দিন।আমরা বহু আগে একবার আমাদের ইন্স্যুরেন্স কমিশনটা বন্ধ করে দিছিলাম। বন্ধ করার পরে আবার যখন শুরু হলো তখন এস পার রুলস- ১৫% কমিশন দেবেন এজেন্টকে, যারা বিজনেস প্রকিউর করে। আর টু অ্যান্ড হাফ পার্সেন্ট ওদের যারা সুপারভাইজরি আছেন, এদের জন্য রাখা আছে। তাই না?

কিন্তু এখন মার্কেটের অবস্থা কি? মার্কেটে ৫০-৬০% এরকম চলতেছে। মানে সবাই দেখাতে চায় যে, আমি কত প্রিমিয়াম আয় করেছি এটাই। বটম লাইনে কি আছে, না আছে এগুলো নো বডি শোজ। এরফলে হয়েছে কি, এ প্র্যাকটিসের জন্য আমাদের বীমা ঠিকমতো উন্নয়ন হচ্ছে না। উই আর নট ডেভেলপিং আওয়ার ইন্স্যুরেন্স। জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মার্কেট যেটা আছে, মার্কেটটা ঠিকমতো গ্রো করছে না। আপনি যতই ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম- এখন আমরা বুকস অব একাউন্টসে দেখাই, একচ্যুয়ালি কিন্তু মার্কেটে আরো বেশি আছে, যথেষ্ট। এর চেয়ে ডাবল, অন্তত ডাবল বা ট্রিপল হতে পারে মাঠে। 

এই যে অবস্থা আমাদের এটার, আমরা সব সময়ই এ সমস্ত মিটিংয়ে আলোচনা করি। আলোচনা করার পরে ইসি মেম্বার, আমি যখন এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ছিলাম ওই সময় আমরা বন্ধ করেছিলাম একবার। বন্ধ করার পর, তারপরে আস্তে আস্তে শুরু হলো,  না এটা উইড্রো কর। ইন্স্যুরেন্সের যে ১৫% কমিশন যেটা আছে, এর টেন এন্ড হাফ পার্সেন্ট ওভার রিটেন কমিশন- এইটা শুরু হলো। তারপরে আই স্টিল রিমেম্বার আমাদের ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের অফিস বিল্ডিং ছিল দৈনিক বাংলা মোড়ে যাওয়া আগ দিয়ে হাতের ডান দিকে ছিল। ওই যায়গায় আমি নিজের কানে শুনেছি, আরেকজন বলছে ২০%, তুমি ৩০% দিয়ে দাও। স্টিল নাউ, এটা আমার কানে ভাসছে। 

এই যে আমাদের নৈতিক চরিত্র, এটা শুধরাবার কোন উপায় নাই। যার ফলে স্টিল আই ফিল দ্যাট এই কমিশন সিস্টেমটা, মার্কেটিং যারা করতে পারছে দে শুড আর্নস অব মানি। এবং এর জন্য আমাদের ইন্স্যুরেন্স মার্কেট আরো ডেভেলপড। কিন্তু ডেভেলপড হওয়ার ফলে আরো বেশি করাপশন এসে গেছে। এইটা কিভাবে আমরা- এই সমুস্ত মিটিংয়ে আমরা বসে আলোচনা করি। আমরা বলি এই সমস্যার সমাধান চাই।কিন্তু সমস্যা সমাধানের পর আরো ডে বাই ডে ইট ইজ বিইং, এটা কিভাবে বন্ধ করা যায়।

আমাদের আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান সাহেব হি ইজ ভেরি ফ্রেইন্ডলি উইথ এভরিবডি।উনি যদি এভাবে সবাইকে নিয়ে বসেন, আলোচনার মাধ্যমে এটার সমাধান করতে পারি কিনা? আরেকবার কি আমরা চেষ্টা করে দেখতে পারবো যে, কমিশন সিস্টেমটা, এটা বন্ধ করা যেতে পারে। কারণ, আদতে কিন্তু ডেভেলপমেন্ট অফিসার বলে জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে ডেভেলপমেন্ট অফিসার নাই। কমিশন হয়তো আমাদের স্টাফরা বা অফিসাররাও মারছে।

কমিশনটা যদি, এই সিস্টেমটা যদি আবার আমরা সবাই মিলিতভাবে বন্ধ করি। আমার মনে হয় আমাদের ইন্স্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রিটা ডেভলপ হবে। থ্যাংক ইউ।

শেখ কবির হোসেন: এ পর্যায়ে অনুরোধ জানাচ্ছি মাহবুবুর রহমান ভাইকে। আমাদের তো অনেক সমস্যা! সমস্যার কথা না বলে যদি সমাধানের কথা বলতেন, আরো ভালো হয়।

মাহবুবুর রহমান: চেয়ারম্যান মহোদয় এবং আমাদের আইডিআরএ’র সম্মানিত চেয়ার‌ম্যান, সদস্যবৃন্দ, আমার সহকর্মীবৃন্দ- আসসালামু আলাইকুম। আসলে আমার মনে হয় যে, এই আইডিআরএ’র সাথে আমাদের  অনেকগুলো মিটিংয়ের বক্তব্য কিন্তু মোটামুটি আমরা দেখেছি একটাই। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, লোকবল নেই এবং রুলগুলো হয় নাই। আইডিআরএ’র জন্ম হলো কবে? আইন হলো কবে? রুলসগুলো কেন হবে না? এইটুকু আসলে বলে শেষ করা যাবে না। তো এটা হওয়া একান্ত দরকার। আর আপনাদের যদি লোকবল না থাকে ইফ ইউ ক্যান নট এনফোর্স ডিরেক্টিভস এন্ড রেগুলেশন্স, ইউ'ড নট রান ইনটু প্রপার। এইটুকু একটু আমার মনে হয় তাড়াতাড়ি করা দরকার- আপনাদের লোকবল থেকে শুরু করে এবং এই রুলগুলোর জন্য।   

দ্বিতীয়টা, আমাদের নিজস্ব সমস্যা। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির। আমি সব সময় আইডেন্টিফাই করেছি একটাই সমস্যা। যেহেতু আমরা আইন মানি না এবং আইন মানার জন্য আমাদের যে বাধ্যবাধকতা যেটুক আছে সেটুকু কিভাবে সাইড-টাইড করা যায় এটুকু মোটামুটিভাবে আমরা রপ্ত করেছি। তো এটা নট ফর রেকর্ড। 

এ বিষয় নিয়ে আমরা অলরেডি আইডিআরএ’র সাথে আলোচনায় আছি। এবং আমরা ফারদার আলোচনা করতে রাজি আছি। কিন্তু ইট হ্যাজ কাম টু স্টপ। এটার দ্বিতীয় কোন অলটারনেটিভ নাই। ইট ইজ ফর দি গ্রেটার ইনটারেস্ট অব দি গভর্নমেন্ট এন্ড মোর অব দি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইটসেলফ। তো এই জিনসটা আমাদেরকে একান্তভাবে সমাধান করা দরকার। ইন দি ইন্টারেস্ট অব অল।  

তো এনিয়ে আমি এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহোদয়কে বলেছি যে, উই মে হ্যাভ এ কমিটি, উই মে হ্যাভ এ ডিসকাশন ইন এ রাউন্ডটেবিল। এ ধরণের ডিসকাশনে অনেকগুলো ইস্যু ডেভলপ করে। তো এটা আমরা মনে হয় করতে পারি। বাট আসল কথাটা হচ্ছে- উই শুড হ্যাভ টু অ্যাড্রেস আওয়ারসেলফস। আমরা নিজেরা ঠিক করে নেব- হাউ ডু উই ডিসাইট টু বিহেইভ। আমাদের বিহেইভিয়ারের সাথে কিন্তু বাকী জিনিসটা নির্ভর করবে। কিন্তু এটা ছাড়া বোধ হয় অলটারনেটিভ কিছু নাই। উই শুড হ্যাভ টু কাম টু স্টপ। এটা করি।

আরেকটা হলো এই বীমা ক্ষেত্রকে আরো ওয়াইডার করার জন্য। সারা পৃথিবীতে যে কোন জিনিস বীমা করতেই হবে। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে, ঘর থেকে শুরু করে, চাকরি-বাকরি, নিজেদের সমস্ত কিছু বীমার আওতায় আসে। হেলথ সিকিউরিটি, এভরিথিং। কিন্তু আমাদের যেগুলো আন্ডার কম্পালসন না হয় এটা কিন্তু আমরা করি না। যেমন মোটর ইন্স্যুরেন্স, এটা করতে হবে। কমপালসরি, হ্যাজ টু বি।

তো এখন সবচেয়ে কম কোনটা পাওয়া যায়, ওই থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স। মোটামুটিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বা ড্রাইভ করার জন্য, রুট পারমিটের জন্য আপনার ওইটুকু করলে হবে। কিন্তু আসলে সেটা তো উচিত না। তো এটা হওয়া উচিত যে, কম্প্রিহেনসিভ ইন্স্যুরেন্স শুড বি দেয়ার। বাট আমার বাড়ি-ঘর, আমার নিজের ফ্যাক্টরি ইন্স্যুরড করা। ব্যাংকের কাছে থাকলে আপনাকে ইন্স্যুরেন্স করতে হবে, নইলে আপনাকে ইন্স্যুরেন্স করতে হবে না। বাড়ির কোন ইন্স্যুরেন্স নাই, আসবাবপত্রের কোন ইন্স্যুরেন্স নাই, কোন কিছুর ইন্স্যুরেন্স নাই।

যদি ইন্স্যুরেন্স আমরা করি, আইনত করা বাধ্যবাধকতা থাকে তাহলে। অবশ্যই এই বীমা জগতটা ডাবল, ট্রিপলেরও বেশি হয়ে যাবে, মানে আমাদের এরিয়া অব অপারেশন। কিন্তু এটা আমার মনে যদি করি তাহলে এই প্রবণতা- বেশি কমিশন দিয়ে পলিসি  সেল  করার প্রবণতাটা কমে আসবে। যেহেতু তার ব্যবসা ক্ষেত্রটা ওয়াইডার হয়েছে। সেই হিসেবে আমার মনে হয় যে, এই বিজনেসটার জন্য আমাদের ওয়াইড করা উচিত।

আর আরেকটা হলো যে, সফটওয়্যারের কথা যে প্রেসিডেন্ট সাহেব বললেন, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন যে, উনি এটার ওপর কাজ করছেন।নেসেসারি ফান্ড অলসো নাউ এভেইল্যাবল। কিন্তু কতগুলো সিস্টেমের মধ্যে আসতে হবে। আমার মনে হয় যে, ইন্টেরিম পিরিয়ডে একটা শুরু করে দিতে পারি উইথ জয়েনিং সাম অব দি আওয়ার কোম্পানি বা আমাদের এসোসিয়েশন।

ওই যে কথাটার বারবার সমাধান আমি পাচ্ছি না যে, কিভাবে কমিশন বন্ধ করব। ওইটা হলে আমাদের সমাধান অটোমেটিক হয়ে যাবে। তো এ কারণে ওই জিনিসটা যতটুকু ফাস্টার করা যাক, এইটুকু আমার মনে হয় করা দরকার। আরো আলাপ করা যাবে। আর কতগুলো জাস্টিক মেজার্স নেয়া যাবে। এটা আমরা পরস্পর আলোচনা করে যদি করি এটা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই করতে হবে। রেগুলেটরি অথরিটি, এটা কিন্তু ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটি। আবার রেগুলেটরি কেন করবেন, ফর দ্যা পারপাস অব ডেভেলপমেন্ট। রেগুলেশন তো ওইটার জন্য, ফর দ্যা পারপাস অব ডেভেলপমেন্ট।

তো ওই জন্য আমার মনে হয় যে, উই শুড ওয়ার্ক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড। আমাদের এসোসিয়েশন এবং আইডিআরএ। এটার কোন বিকল্প নাই।  ওনারা আমাদের গ্রোথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বন্ধ করার জন্য রেগুলেশন করার জন্য এখানে আসেন নাই। দেয়ার গোয়িং টু হেলপ আস, প্রভাইডস দি ফ্যাসিলিটিস এন্ড সার্ভিসেস, সো দ্যাট উই ক্যান গ্রো। এই জিনিসটা আমার মনে হয় একান্ত প্রয়োজন।

আমরা এদিকে যদি লক্ষ্য রেখে সামনে এগুতে থাকি ইনশাল্লাহ আমরা বোধ হয় একটা সমাধানে পৌঁছতে পারব। আমি মনে করি ... উই টেক টু থাউজেন্ড এইটিন এজ দি ইয়ার। এই বছরের মধ্যে আমরা এটা বন্ধ করব। ইনশাল্লাহ। থ্যাংক ইউ।

শেখ কবির হোসেন: মাহবুবুর রহমান সাহেব, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি এখন অনুরোধ জানাচ্ছি সাবেক চেয়ারম্যান, জীবন বীমা করপোরেশন, একচ্যুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিনকে -

ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন একচ্যুয়ারি: আসসালামু আলাইকুম। আমি শুধুমাত্র এই যে আলোচনার যে ফোকাসটা আছে শুধু সেই বিষয়ের ওপর কিছু আলোচনা করব। বিভিন্ন মতামত এখানে দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে। প্রধান বিষয়বস্তু হলো বীমা আইন, ২০১০। এই আইনের ভিতরে বেশ কিছুটা অস্পষ্টতা আছে আমরা সবাই জানি। আমার একটা সুপারিশ হলো এই যে, একটা কমিটি গঠন করা হোক এই বীমা আইনটা দেখার জন্য।

এবং আমি একটা সাজেশনও দিতে চাই যে, আইডিআরএ’র যিনি আইনের যিনি সদস্য আছেন তাকে কনভেনার করে একটা কমিটি গঠন করা হোক। এবং তাদেরকে একটা সময়সীমা দেয়া হোক অর্থাৎ ৬ মাস বা ১ বছর।

আমার মনে হয় এটা বাস্তবায়ন করতে করতে ১ বছর সময় লেগে যাবে। ২০১০ সালে আইনটি প্রণিত হয়েছিল, আমরা অনেকেই জানি এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। কাজেই এটাকে আমার মনে হয় একটু যুগোপযোগী করা দরকার এবং এমেন্ডমেন্টটা প্রায় হয়, এটাতো চলমান প্রক্রিয়া। আমি সেই একটা সাজেসন এখানে রাখতে চাচ্ছি।

আর কিছু আছে ওই প্রবিধান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। প্রবিধানটা কিন্তু অনেক জটিল।বীমা আইনের ভিতর যখন একোমোডেট করা যায় না, অনেক সময় এটা লিখে দেয়া হয় যে, প্রবিধানে এটা বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। কিন্তু এখন দেখছি যে, আইডিআরএ’র কাছে কিন্তু ইংরেজিতে অনেক প্রবিধান তৈরি করা আছে। তারা এখন বাংলায় এটাকে ট্রান্সিলেশন করে ওয়েবসাইটে দিচ্ছেন, এটা ভালো কথা। কিন্তু বাংলায় যখন ট্রান্সিলেশন হচ্ছে, আমার ধারণা ২০১১ সালে, এটা অনেক অস্পষ্টতা আছে। বুঝতে পারছি না, এখন জানি না এরা বুঝতে পারছেন কি না। তো আমার মনে হয় এই জিনিসগুলো দেখা দরকার।

এ বিষয়ে একটু সাজেশন দিচ্ছি। সাজেশনটা হচ্ছে, ভারতে যখন প্রবিধানগুলো করে তখন ওরা কিন্তু এডভাইজরি কমিটি একটা আছে, সেই এডভাইজরি কমিটিকে দিয়ে দেয় এবং তারা মতামত দেয় এবং পরে আইআরডিএ’র কাছে আসে। তখন তারা স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ করে এটা চূড়ান্ত করে। পাকিস্তানে কিন্তু একটা পলিসি বোর্ড আছে যার প্রধান ফাইন্যান্স ডিভিশনের সেক্রেটারি। তো ওখানে একটা পলিসি বোর্ড আছে তারাই সিদ্ধান্তগুলো, সিদ্ধান্ত ঠিক না রিকমান্ডেশন করে বা যাই কিছু করুক।

আমাদের এখানে আমার মনে হয় এ ধরণের কিছু করা দরকার। এখানে যে এডভাইজরি কমিটি কিভাবে হবে তার জন্য একটা প্রবিধানও তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও কিন্তু অস্পষ্টতা আছে, আমি দেখেছি। ওইটা এমেন্ডমেন্ট করে ওইটা আমার মনে হয় এডভাইজরি কমিটির কাছে দিয়ে দিলে তারা এটা আলোচনা করবে। পরে ইডরার নিজস্ব যে জনবল আছে তারা তা পরীক্ষা করে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে। কিন্তু একটা ড্রাফট খাঁড়াও করা উচিত।

এখানে অনেকগুলো অসুবিধা আছে কিন্তু আমাদের এই আইন এবং প্রবিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। যেমন- এখানে তাকাফুলের কথা বলা হয়েছে। উনি বলছেন, ইনকনসিসটেন্স আছে। আমি আগেই বলেছি আইনের ভিতর সব কিছু থাকে না। যখন এই আইনটা করা হয়েছিল একটা কমিটির মাধ্যমে। আমি কমিটির কনভেনার ছিলাম। কিন্তু তাকাফুল এ্যাক্ট আলাদাভাবে তৈরি করে সরকারের কাছে দিয়েছি। কিন্তু ওটাকে যেভাবে হোক না কেন রাখে নাই সরকার। যেটা করা হয়েছিল অর্থাৎ পরবর্তীকালে সেটা হলো যে, রুলসের ভিতর বলা হয়েছিল ১৪৮ এ। ৪৬ বোধ হয় প্রবিধান না?

আচ্ছা যা হোক, সেখানে বলে, প্রবিধান না, এটা রুলসের ভিতর যাবে। সেখানে বলা হয়েছিল, একটা প্রবিধান করা হবে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো তাকাফুল বিজনেস তারা করছে ২০০০ সাল থেকে। আমি তো বুঝি না, এটা কোন ধরণের ইন্স্যুরেন্স। সত্যি কথা বলতে গেলে, আমি আসলে বুঝি নাই। হোয়েদার ইট কনফার্স টু শরীয়াহ অর কনফার্স টু কনভেনশনাল ইন্স্যুরেন্স অর বিটুইন দি টু?

কাজেই এই রুলস করা ইসেনশিয়াল। কিন্তু সবচাইতে আগে যেটা হওয়া উচিত সেটা হলো, একাউন্টিং রেগুলেশন্স। এখানে একটা সমস্যা আছে, আপনার যে রেগুলেশন্সের ওপর বেজ করে একাউন্টগুলো তৈরি করা হয়। সেই রেগুলেশন্স বর্তমান যে আইন আছে ২০১০ তার সাথে ইনকনসিসটেন্স।

কারণ বর্তমান ২০১০ সালের আইনে বলা আছে যে, পলিসিহোল্ডার্স ফান্ড এবং শেয়ারহোল্ডার্স ফান্ড পৃথক থাকবে। কিন্তু যে রেগুলেশন্স অনুযায়ী এটা করা হয়, এ ধরণের প্রবিশন এই রেগুলেশন্সে নাই। কাজেই পুরনো রেগুলেশন্সে চলছে, কাজেই এখানে আইনের কিছুটা ব্যত্যয় আছে।

প্রথমে আমি একটা সিডিউল প্রেজেন্ট করছি। এখানে কতগুলো রেগুলেশন্স শুধু লিস্ট বলছি। প্রথমেই আমার মনে হয় প্রায়োরিটি একাউন্টিং রেগুলেশন্স। অনেকে বলেছে হেলথ ইন্স্যুরেন্স। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের একটা গাইডলাইন্স বা রেগুলেশন না হলে পারা যাবে না।

এরকম থার্ডপার্টি এডমিনিস্ট্রেটিভ অনেক সময় ইন্ডিয়াতে হয়েছে, সব জায়গাতেই থার্ডপার্টি এডমিনিস্ট্রেটিভের মাধ্যমে এটা যায়। সেটা করা লাগবে। ব্যাংকাস্যুরেন্সের একটা রেগুলেশন্স করা লাগবে। করপোরেট এজেন্সি, বলা হচ্ছে যে, নতুন নতুন ডিস্ট্রিবিইশন চ্যানেল সৃষ্টি করা দরকার। সেটাও করা লাগবে। রিইন্স্যুরেন্সে কিছু পরিবর্তন আনা লাগবে।

ইনভেস্টমেন্টে লিংকড প্রোডাক্ট, ইনভেস্টমেন্ট লিংকড প্রোডাক্ট একটা আছে। আমাদের দেশে নাই, তাছাড়া সব দেশে আছে। কিন্তু তার কোন রেগুলেশন্স নাই। মাইক্রো ইন্স্যুরেন্সের কোন রেগুলেশন্স নাই। এগুলো কিন্তু থাকা উচিত। এগুলো যদি ওয়েল থট আউট, যদি আমরা রেগুলেশন্স করেন। আমার মনে হয় যে বিষয়গুলো এখানে আলোচনা হয়েছে, সে সমস্যা আর থাকবে না। যদি ওয়েল থট আউট রেগুলেশন্স যদি ইন্ট্রুডিউস করা থাকে। থ্যাংক ইউ।