আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে দ্রুত বাড়ছে স্বাস্থ্য বীমা খাত। এর পেছনে কাজ করছে সরকারি সংস্কার, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি বিনিয়োগ। প্রবাসী কর্মীর সংখ্যাও বাড়াচ্ছে বীমার চাহিদা।
আইএমএআরসি গ্রুপের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৫ সালের ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই খাত ২০৩৪ সালে ১২.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৩ কোটি ৫৩ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ সৌদি নাগরিক এবং প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ বিদেশি বাসিন্দা। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৪.৪ শতাংশই প্রবাসী। বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। ফলে এই জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য বীমা খাতের বড় গ্রাহকভিত্তি তৈরি করেছে।
সৌদি অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি তেল ও হাইড্রোকার্বন। তবে ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিনোদন এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি ১.৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নন-অয়েল কার্যক্রম বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ। অন্যদিকে তেলভিত্তিক কার্যক্রম কমেছে ৪.৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, দেশের আয়ের উৎস ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
সরকারি সংস্কার এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা বাড়ায় স্বাস্থ্য বীমার চাহিদাও বাড়ছে। আইএমএআরসি জানায়, ২০২৫ সালে গ্রুপ স্বাস্থ্য বীমা মোট খাতের ৭৪.৫ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত পলিসি ২৫.৫ শতাংশ দখল করেছে। একই সময়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ ছিল ৭০ শতাংশ। বাধ্যতামূলক নিয়োগকর্তাভিত্তিক কভারেজের কারণে করপোরেট খাতের কর্মীরাই গ্রুপ বীমার সবচেয়ে বড় গ্রাহক।
স্বাস্থ্য বীমার প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সৌদি আরবের সামগ্রিক বীমা শিল্পও সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশটির বীমা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট গ্রস রিটেন প্রিমিয়াম ১৬.৩ শতাংশ বেড়ে ৭৬.১৪ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য বীমা থেকে এসেছে প্রায় ৪২.২৫ বিলিয়ন রিয়াল, যা মোট প্রিমিয়ামের ৫৫.৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও মোটর বীমা মিলিয়ে পুরো বীমা খাতের ৭৩.৭ শতাংশ। একই বছরে মোটর বীমার অংশ ছিল ১৮.২ শতাংশ।
প্রিমিয়ামের পাশাপাশি ক্লেইম ব্যয়ও বাড়ছে। ২০২৪ সালে মোট পরিশোধিত ক্লেইম ১৫.৯ শতাংশ বেড়ে ৪৭.৯ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বীমার ক্লেইম ১২.১ শতাংশ এবং মোটর বীমার ক্লেইম ২১.২ শতাংশ বেড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বাড়লে এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে ক্লেইমের চাপ আরও বাড়তে পারে।
২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সৌদি বীমা কর্তৃপক্ষ এখন দেশটির বীমা শিল্পের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সংস্থাটি গ্রাহক সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ২০২৪ সালে বীমা খাতের নিট মুনাফা ৩.৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে নন-অয়েল জিডিপিতে খাতটির অবদান বেড়ে ২.৫৯ শতাংশ হয়েছে।
তবে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্য প্রতিযোগিতা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, নিয়ন্ত্রক ব্যয় এবং বাড়তে থাকা ক্লেইম খাতটির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তারপরও বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা, বিপুল প্রবাসী কর্মী, ডিজিটাল ক্লেইম ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের কারণে সৌদি আরব আগামী দশকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বীমা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।