ভ্রমণ বীমার সঙ্গে ই-সিম সেবা যুক্ত করল আলিয়াঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

সংবাদ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে ই-সিম মোবাইল ডেটা সুবিধা যুক্ত করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বীমা প্রতিষ্ঠান আলিয়াঞ্জ। নতুন এই সেবার ফলে গ্রাহকরা একটি প্যাকেজ থেকেই ভ্রমণ বীমার পাশাপাশি বিদেশে ব্যবহারের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সুবিধাও পাবেন।

এতে বিদেশে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সিম কার্ড কেনা বা আলাদা ডেটা প্যাকেজ নেয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে যাবে।

এই উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়া, গুগল ম্যাপসে পথ খোঁজা, ফ্লাইটের সময়সূচি দেখা, রাইড-শেয়ারিং ব্যবহার, অনলাইন পেমেন্ট করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ- সবকিছুর জন্যই মোবাইল ডেটা প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক ভ্রমণকারী বিদেশে পৌঁছে স্থানীয় সিম সংগ্রহ, নিবন্ধন বা ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের কারণে সমস্যায় পড়েন।

আলিয়াঞ্জ জানিয়েছে, তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যাবে। গ্রাহকরা ভ্রমণ বীমা কেনার সময়ই ই-সিম-সমৃদ্ধ একটি প্যাকেজ বেছে নিতে পারবেন। এরপর গন্তব্যে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। ফলে আলাদা করে সিম কার্ড সংগ্রহ বা নতুন ডেটা প্যাকেজ চালুর প্রয়োজন হবে না।

ই-সিম বা এমবেডেড সিম হলো ফোনের ভেতরে আগে থেকেই সংযুক্ত একটি ডিজিটাল সিম। প্রচলিত সিম কার্ডের মতো এটি খুলে বা পরিবর্তন করতে হয় না। সাধারণত একটি কিউআর কোড স্ক্যান বা অপারেটরের দেয়া তথ্য ব্যবহার করেই এটি চালু করা যায়। বর্তমানে বাজারে আসা অনেক নতুন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও স্মার্টওয়াচে এই প্রযুক্তি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ই-সিম প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে বৈশ্বিক ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স খাতও। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে এই খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ই-সিম-সমর্থিত ডিভাইসের সংখ্যা কয়েক বিলিয়নে পৌঁছাবে। ফলে ভ্রমণ, টেলিযোগাযোগ ও বীমা- এই তিন খাতের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-সিমের প্রধান সুবিধা হলো সহজ ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের তুলনায় কম খরচে ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সিম কেনার জন্য দোকান খোঁজা, পরিচয়পত্র নিবন্ধন বা ভাষাগত জটিলতার মতো সমস্যাও এড়ানো যায়। ভ্রমণের আগেই ডেটা সংযোগ প্রস্তুত করে রাখা সম্ভব হওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করা যায়।

তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সব স্মার্টফোন এখনও ই-সিম সমর্থন করে না। আবার সব দেশের সব মোবাইল অপারেটরও এই সেবা দেয় না। ফলে ভ্রমণের আগে নিজের ডিভাইস এবং গন্তব্য দেশের নেটওয়ার্কে ই-সিম সুবিধা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আলিয়াঞ্জ বর্তমানে প্রায় ৭০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি ভ্রমণ-সম্পর্কিত ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ই-সিমকে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও সেই কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই ধরনের সেবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে বিদেশে যান। তাদের জন্য ভ্রমণ বীমার সঙ্গে ই-সিম সুবিধা যুক্ত হলে বিদেশে পৌঁছানোর পর যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ঝামেলা কমতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের বীমা খাতেও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সেবা চালুর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে এখন শুধু আর্থিক সুরক্ষা নয়, নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই পরিবর্তিত চাহিদার প্রতিফলন হিসেবেই ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে ই-সিম সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বীমা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের সমন্বিত সেবা চালু করলে তা বিস্ময়কর হবে না।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।