নিজস্ব প্রতিবেদক: হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার খরচ স্বাস্থ্যবীমা থেকে পাওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশে এই রোগের চিকিৎসা বীমার আওতায় থাকবে কি না এবং কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বীমার শর্তের ওপর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, হান্টাভাইরাস মূলত সংক্রমিত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব ও লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। এতে জ্বর, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শ্বাসকষ্ট ও কিডনি বিকল হতে পারে। রোগটি সারানোর নির্দিষ্ট অনুমোদিত ওষুধ নেই। প্রতিরোধে অনুমোদিত টিকাও নেই। অধিকাংশ হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্ডিস ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে অন্য মানুষও সংক্রমিত হতে পারেন।
ডব্লিউএইচও'র হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ১০ হাজার থেকে এক লাখের বেশি মানুষ হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এশিয়া ও ইউরোপে শনাক্ত রোগীদের মৃত্যুহার ১ শতাংশের কম থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। আমেরিকায় হান্টাভাইরাসজনিত গুরুতর ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রের রোগে এ হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ হতে পারে।
চলতি বছরের ২ মে নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ প্রমোদতরিতে কয়েকজনের গুরুতর শ্বাসজনিত অসুস্থতার খবর পায় ডব্লিউএইচও। জাহাজটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের দিকে যাচ্ছিল। পরে তাদের মধ্যে অ্যান্ডিস ভাইরাস শনাক্ত হয়।
ডব্লিউএইচও'র ২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ১২ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয় এবং একজন সম্ভাব্য রোগী ছিলেন। তিনজন মারা যান। ওই দিন সংস্থাটি প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশে আক্রান্তের হালনাগাদ সরকারি সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
বাংলাদেশে কিছু স্বাস্থ্যবীমায় হাসপাতালে ভর্তি, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ নির্ধারিত সীমার মধ্যে দেয়া হয়। আবার কিছু বীমায় হাসপাতালে থাকার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। তবে আইসিইউ, অক্সিজেন বা ডায়ালাইসিসের খরচ বীমার আওতায় থাকবে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
কিছু স্বাস্থ্যবীমায় সুবিধা পাওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। একে বলা হয় ‘অপেক্ষাকাল’। বীমা নেয়ার আগে থেকে থাকা রোগ বা কিছু চিকিৎসার খরচও বীমার বাইরে থাকতে পারে।
হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে চালু লাইফ বীমা থেকে টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে বীমা চালু না থাকা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করলে দাবি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। শুধু দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত বাড়তি সুবিধা সাধারণ রোগে মৃত্যুর ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। বিদেশে আক্রান্ত হলে ভ্রমণবীমায় জরুরি চিকিৎসা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার খরচও পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা বীমার শর্তে থাকতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মোট চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশ মানুষ নিজের পকেট থেকে বহন করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫ জরিপ অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শূন্য দশমিক চার শতাংশ এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের শূন্য দশমিক আট শতাংশ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় ছিলেন। ফলে গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসার খরচ দাবি করতে হাসপাতালের বিল, পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। লাইফ বীমায় মৃত্যুর টাকা দাবি করতে আলাদা কাগজপত্র লাগে। দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করা যায়।
বীমা আইন, ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুযায়ী, দাবি পরিশোধযোগ্য হওয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মধ্যে যেটি পরে ঘটে, সেখান থেকে ৯০ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে সুদ দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে দেরির কারণ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে প্রমাণ করতে পারলে এ নিয়মে ছাড় পাওয়া যায়। একই আইনের ৭৩ ধারায় বীমা দাবি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই স্বাস্থ্যবীমা কেনার আগে কোন চিকিৎসায় কত টাকা পাওয়া যাবে এবং কোন খরচ বীমার বাইরে থাকবে, তা জেনে নেয়া জরুরি।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।