বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়লেও বীমা সুরক্ষা সীমিত

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

রাজ কিরণ দাস: বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে এসব প্রকল্পে ক্ষতি হলে আর্থিক ঝুঁকি সামাল দেয়ার মতো বীমা সুরক্ষা এখনো সীমিত। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া বা বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনায় প্রকল্প মালিক ও বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ এখন শুধু পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নয়, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ হচ্ছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। এর মধ্যে সৌর বিদ্যুতের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। দেশে বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা, সৌর সেচ পাম্পসহ ছোট আকারের প্রকল্পও চালু রয়েছে। স্রেডার তথ্যভান্ডারে বড় সৌর প্রকল্পের তালিকায় বিভিন্ন জেলার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেশে বড় আকারের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী দিনে সৌর বিদ্যুৎ খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

তবে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্ষতির ঝুঁকিও। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহের মতো ঘটনায় সৌর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার ও ব্যাটারি নষ্ট হলে প্রকল্প মালিকদের মেরামত খরচ বাড়ে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে পাওয়া আয়ও কমে যায়।

বর্তমানে প্রচলিত বীমার মাধ্যমে কিছু ধরনের ক্ষতির সুরক্ষা পাওয়া গেলেও সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সব ধরনের ঝুঁকিতে পূর্ণ সুরক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এসব প্রকল্পে শুধু যন্ত্রপাতির ক্ষতি নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে আয়ের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালিক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও উপযোগী বীমা পণ্য প্রয়োজন।

বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মোট কত টাকার বীমা প্রিমিয়াম আদায় হচ্ছে, কতটি বীমা কোম্পানি এ খাতে কাজ করছে এবং ক্ষতির বিপরীতে কতগুলো বীমা দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে- এ ধরনের আলাদা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাধারণ বীমা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য পৃথক বাজার তথ্য নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর বিদ্যুৎ খাতে বীমার ব্যবহার বাড়াতে হলে প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষতি, দুর্যোগের প্রভাব এবং অতীতের ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হলে প্রকল্প মালিকদের আয়ের ক্ষতি পূরণে সহায়তা করবে, এমন নতুন বীমা পণ্য চালু করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব প্রকল্পে অর্থায়নে আরও আগ্রহী হতে পারে।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।