ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ২০১৬ সালের এপ্রিলে শস্য বীমা প্রকল্প- পিএমএফবিওয়াই চালু করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বন্যা, খরা, আগুন, ভূমিধস, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, পোকামাকড়, রোগ-বালাইসহ বিরুপ আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই শস্য বীমা।
শুরুর দিকে প্রকল্পটি কৃষকের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছিল, তবে দিনে দিনে কমে আসছে নরেন্দ্র মোদীর এই শস্য বীমা প্রকল্পের চাহিদা। সর্বশেষ অর্থ বছরে দেশটির নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর এ খাতের মোট প্রিমিয়াম আয় ৪.১৭ শতাংশ কমেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সরকারি সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভারতীয় বীমা কোম্পানিগুলোর ২০২৪ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী ফাসল বীমা যোজনার (পিএমএফবিওয়াই) অধীনে শস্য বীমার প্রিমিয়াম আয় কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে নেতৃস্থানীয় বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয় হ্রাসকে দায়ি করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ অর্থবছরে বীমা কোম্পানিগুলোর আন্ডাররাইট করা মোট সরাসরি প্রিমিয়াম আয় ৩০ হাজার ৬৭৭ কোটি রুপি। যা ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৩২ হাজার ১১ কোটি রুপি। বন্যা, অসময়ের বৃষ্টি এবং তাপপ্রবাহসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা উল্লেখযোগ্য ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও এই পতন ঘটেছে।
এর আগে ২০২২ অর্থবছরে দেশটির নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর শস্য বীমার এই প্রিমিয়াম আয় ৮.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল।
জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, শস্য বীমার প্রিমিয়াম আয়ের হার কমে আসার ক্ষেত্রে প্রধান অবদান রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এগ্রিকালচার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি- এআইজি’র। প্রতিষ্ঠানটির শস্য বীমার প্রিমিয়াম আয়ের হার ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০২৪ অর্থবছরে ৯ হাজার ৮৯০ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৬১৯ কোটি রুপি।
এছাড়াও ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শস্য বীমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির শস্য বীমার প্রিমিয়াম আয় আগের বছরের তুলনায় ৮.৯৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫২ কোটি রুপি। অপরদিকে এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয়ও কমেছে।
দেশের আরেক বৃহত্তম বীমা প্রতিষ্ঠান নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স কোম্পানি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রিমিয়াম আন্ডাররাইট করেছে৷ আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১.৩৮ কোটি রুপি কমে মোট ৩৪.৪১ কোটি রুপি শস্য বীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি। (সূত্র: আইবি)
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।