জাতীয় বাজেট ঘোষণা

বিদেশি পুনর্বীমা প্রিমিয়ামে কর ছাড়, সুবিধা পাবে বীমা খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বিদেশি পুনর্বীমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বীমা খাতের জন্য বড় কোনো পৃথক সংস্কার কর্মসূচি না থাকলেও এ পদক্ষেপ দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোর পুনর্বীমা ব্যয় কমাতে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নন-লাইফ বীমা খাতে পুনর্বীমাযোগ্য প্রিমিয়ামের ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছে পুনর্বীমা করতে হয়। বাকি ৫০ শতাংশ বিদেশি পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। বিদেশে পুনর্বীমা করার ক্ষেত্রে এতদিন দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলোকে পরিশোধিত পুনর্বীমা প্রিমিয়ামের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হতো। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এ করের বোঝা অর্ধেকে নেমে আসবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, বীমা খাতকে কেন্দ্র করে আলাদা কোনো সংস্কার অধ্যায় বা বিস্তৃত কর্মসূচি না থাকলেও করনীতি ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রস্তাবে বীমা খাতের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বিদেশি পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিশোধিত পুনর্বীমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে দেশীয় বীমা কোম্পানিগুলো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো প্রকল্প, জাহাজ, বিমান এবং উচ্চমূল্যের অন্যান্য ঝুঁকির একটি অংশ বিদেশি পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করে থাকে। ফলে করহার কমানো হলে পুনর্বীমা ব্যয় হ্রাস পেতে পারে এবং বীমা কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি কার্যকর উৎস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে পেনশন তহবিল, বীমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন, পেশাদার ফান্ড ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের আকার ও পরিধি সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

কর কাঠামোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড নয় এমন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার ৪০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর কাঠামোয় নতুন কোনো রেয়াত বা পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হয়নি।

এছাড়া বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন, কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইক্যুইটি বা মূলধনী বিনিয়োগ রয়েছে। এসব বিনিয়োগের বিপরীতে সরকার মুনাফা বা লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকারী হলেও বর্তমানে এ ধরনের বিনিয়োগের কোনো পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ নেই। এ কারণে বীমা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারের ইক্যুইটি বিনিয়োগের একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।

তবে বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বীমা প্রবেশ হার বৃদ্ধি, ডিজিটাল বীমা সম্প্রসারণ, দাবি নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বীমা পণ্য উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এবারের বাজেটে কোনো উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ বা নীতিগত ঘোষণা দেয়া হয়নি।