জাপানে লাইফ বীমায় প্রিমিয়াম ও বিনিয়োগ আয় বেড়েছে

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের লাইফ বীমা খাতে প্রিমিয়াম ও বিনিয়োগ আয় বেড়েছে। তবে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বদলাচ্ছে বীমার প্রয়োজনও। স্বাস্থ্যসেবা, অবসরকালীন আয় ও আয় হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২৫ অর্থবছরে জাপানের ৪১টি লাইফ বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ছিল ৩৮ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৩ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৩৬ দশমিক ৮০ ট্রিলিয়ন ইয়েন। অর্থাৎ এক বছরে প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

একই সময়ে বিনিয়োগ আয়েও বড় বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে বিনিয়োগ থেকে কোম্পানিগুলোর আয় ছিল ১২ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন ইয়েন। ২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৯ দশমিক ০২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১১ হাজার ৭৯০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ আয় বেড়েছে প্রায় ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২৫ অর্থবছরটি ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হয়। জাপান লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে পাওয়া প্রিমিয়ামের একটি অংশ বিনিয়োগ করে। সেখান থেকে পাওয়া আয় দীর্ঘমেয়াদি দায়, বীমা দাবি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে শুধু প্রিমিয়াম ও বিনিয়োগ আয় দিয়ে একটি বীমা কোম্পানির পুরো আর্থিক চিত্র বোঝা যায় না। একই অর্থবছরে দাবি, অ্যানুইটি ও অন্যান্য বীমা সুবিধা বাবদ কোম্পানিগুলো ১৮ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে জাপানের বীমা খাতে গ্রাহকের প্রয়োজনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রচলিত লাইফ বীমার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, অবসরকালীন আয় ও আয় সুরক্ষার মতো বীমা গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বীমা চিকিৎসার খরচ সামলাতে আর্থিক সহায়তা দেয়। কিন্তু অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধিতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব না হলে নিয়মিত আয় কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় রয়েছে আয় সুরক্ষার বীমা। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘ডিসঅ্যাবিলিটি ইনকাম ইন্স্যুরেন্স’ নামে পরিচিত। অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধিতার কারণে কাজ করা সম্ভব না হলে হারানো আয়ের একটি অংশ পূরণে এ ধরনের বীমা সহায়তা করে।

বীমার প্রয়োজনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে জাপানের জনসংখ্যার পরিস্থিতিও জড়িত। ২০২৫ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের প্রায় তিনজন ছিলেন এই বয়সী।

বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন বাড়তে পারে। আবার অবসরের পর চাকরির নিয়মিত আয় না থাকায় বিকল্প আয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।

এ ক্ষেত্রে একটি বিকল্প হতে পারে অ্যানুইটি। সহজভাবে বললে, কর্মজীবনে জমা করা অর্থ থেকে অবসরের পর নির্দিষ্ট নিয়মে আয় পাওয়ার ব্যবস্থা হলো অ্যানুইটি।

অন্যদিকে জাপানের মোট জনসংখ্যার পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও কমছে।

জাপানের অর্থনীতির বড় অংশ আসে সেবা খাত থেকে। পাশাপাশি গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্বালানি ও বিভিন্ন কাঁচামালের জন্য দেশটি উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানিনির্ভর।

এমন অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রমশক্তি কমলে উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মীর ঘাটতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ায় পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এই বাস্তবতায় জাপানে লাইফ বীমার প্রয়োজনও বদলাচ্ছে। মৃত্যুর পর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা, অবসর এবং আয় হারানোর মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগামী দিনে গ্রাহকের এসব পরিবর্তিত প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বীমা পণ্য তৈরি করা জাপানের লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের অর্থ দক্ষভাবে পরিচালনা এবং সময়মতো বীমা দাবি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের সক্ষমতাও ধরে রাখতে হবে।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।