সংবাদ ডেস্ক: বড় ক্ষতির আর্থিক চাপ কমাতে বীমা কোম্পানি নিজের ঝুঁকির একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়। এটিই পুনঃবীমা। এবার পুনঃবীমায় নতুন বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার নীতিমালা ঘোষণা করেছে লন্ডনের আন্তর্জাতিক বীমা কেন্দ্র লয়েডস। নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্রোকার বা মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন বীমা কোম্পানির পুনঃবীমা চুক্তির নির্ধারিত অংশ একটি ব্যবস্থার আওতায় আনবে। এসব চুক্তির ঝুঁকি বহনের জন্য বাইরের বিনিয়োগকারীরা মূলধন দেবে। তবে ব্রোকার এই ব্যবস্থার মালিক হতে বা মূলধন দিতে পারবে না। চুক্তি বণ্টনে ব্রোকারের প্রভাব ও কমিশন থেকে আয়ের সুযোগ থাকায় স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একজন ব্রোকার তার মোট চুক্তিভিত্তিক পুনঃবীমা ব্যবসার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ নতুন ব্যবস্থায় আনতে পারবে। এতে অতিরিক্ত ব্যবসা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় ঝুঁকি যাচাই ও ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ম্যানেজিং এজেন্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লয়েডস সদস্যকে মোট মূলধনের ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ দিতে হবে। মোট ঝুঁকি বহনের সক্ষমতার ২৫ শতাংশ আসতে হবে প্রধান পুনঃবীমাকারীদের কাছ থেকে। ক্ষতি হলে চুক্তি অনুযায়ী ঝুঁকি গ্রহণকারী সদস্যরাই দাবি পরিশোধ করবেন। ব্রোকার সাধারণত ক্ষতিপূরণের দায় বহন করে না।
নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী যোগ্য সব পুনঃবীমা চুক্তি নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। শুধু লাভজনক চুক্তি বেছে নেয়া যাবে না। ব্রোকার প্রতি মাসে ব্যবসার তথ্য দেবে। ম্যানেজিং এজেন্ট তা যাচাই করবে। লয়েডস পাবে তিন মাস পরপর প্রতিবেদন।
পুনঃবীমা ব্রোকার গ্যালাঘার রি-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বে পুনঃবীমার মোট মূলধন ছিল ৬৮৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে আসা মূলধন ছিল ১৪৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে লয়েডসে পুনঃবীমার প্রিমিয়ামের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগে পুনঃবীমার খরচ আরও কমতে পারে। তবে কম প্রিমিয়ামে বেশি ঝুঁকি নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়বে।
দীর্ঘমেয়াদে লয়েডসের লক্ষ্য, প্রতি ১০০ টাকা প্রিমিয়ামের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ ও পরিচালন ব্যয় ৯৫ টাকার মধ্যে রাখা। নিয়মিত ঝুঁকি যাচাই, আর্থিক তদারকি ও বড় ক্ষতি সামাল দিতে মূলধন সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। তৃতীয় বছরে ‘ইনডেক্সেশন’ সংক্রান্ত ৭০ শতাংশের একটি শর্ত রয়েছে। শর্ত পূরণ না হলে লয়েডস ও ম্যানেজিং এজেন্ট সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ চালু রাখা বা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে শর্তটি কীভাবে হিসাব করা হবে, তা প্রকাশিত ব্যাখ্যায় স্পষ্ট নয়।
পরিচালন ও মূলধন ব্যবস্থাপনায় খরচ কমলে সাশ্রয়ের একটি অংশ পুনঃবীমা কেনা বীমা কোম্পানিগুলোকে ফেরত দেয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ফেরতের হার নির্দিষ্ট নয়। সাধারণ বীমাগ্রাহকের প্রিমিয়াম কমবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক পুনঃবীমা ব্রোকার এওন ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোনের ‘কর্টিনা’ নামে একটি পুনঃবীমা উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এতে ব্ল্যাকস্টোন পরিচালিত তহবিল থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে। তবে উদ্যোগটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশের বীমা কর্পোরেশন আইন, ২০১৯ অনুযায়ী, নন-লাইফ বীমার পুনঃবীমাযোগ্য অংশের ৫০ শতাংশ সাধারণ বীমা করপোরেশনে দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে সরকার এ বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় দেশীয় কোম্পানিগুলো কম খরচে বড় অঙ্কের ঝুঁকির বিপরীতে পুনঃবীমা সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের নিশ্চয়তা, দেশের আইন এবং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ'র তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।