ভোলায় অত্যাধুনিক মসজিদ বানালেন মেঘনা লাইফের চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি বীমা কোম্পানি মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ দ্বীপ জেলা ভোলায় নির্মাণ করলেন দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক জামে মসজিদ। শহরের উকিল পাড়ায় প্রায় দেড় একর জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদের নাম ‘নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন মসজিদ’। আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদটির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী দিনে জুমার নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী বেগম হাসিনা বেগম ২০০০ সালে নিজস্ব সম্পত্তি দান করে প্রতিষ্ঠা করেন নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনের সার্বিক তত্বাবধান ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হলো মসজিদটি। বর্তমানে নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস হাসিনা নিজাম। মেঘনা লাইফ ও কর্নফুলী ইন্স্যুরেন্স উভয় কোম্পানিতেই রয়েছে নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশনের মালিকানা।

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, ২০১০ সালের জুন মাসে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫২ হাজার শ্রমিক মসজিদ নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। আর্কিটেক্ট ফোরামের ডিজাইনার কামরুজ্জামান লিটন মসজিদটির ডিজাইন করেছেন।

মসজিদে ১২০ ফুট উচ্চতার মিনার ও প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার গম্বুজ রয়েছে। থাকবে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও হেফজখানা। মসজিদটির কারুকাজে আরবি ক্যালিওগ্রাফি ও আল্লাহ লেখা ডিজাইনের ফোয়ারাসহ আধুনিক নানা স্থাপনা ব্যবহার করা হয়েছে।

নানান রঙয়ের মার্বেল পাথরসহ বিভিন্ন পাথরে কারুকাজ দ্বারা নির্মিত দুইতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে ২ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। রয়েছে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা অজুখানা এবং নামাজের ব্যবস্থা। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থা। আধুনিক অজুখানা, এয়ারকন্ডিশন ও ফ্যান ছাড়াও রয়েছে শ্বেত পাথরের টাইলস, বিছানো হয়েছে কার্পেট। এছাড়া মসজিদের চারপাশে ফুল বাগান তৈরি করা হয়েছে।

মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও উপস্থিত থাকবেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র উকিল পাড়ায় দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটিকে ঘিরে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এ বিষয়ে নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নাম কিংবা পরিচিতির জন্য নয়, মূলত আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি পেতেই সেবাসেবামূলক কাজ করছি। সাধ্যমতো অসহায় দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। গরীর মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে ভাগ্যবান করেছেন এবং আর্থিক স্বচ্ছতলতা দান করেছেন। আল্লাহ তা’য়ালার কাছে অশেষ শোকরিয়া; তিনি আমাকে গরীব অসহায় মানুষের সেবার করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে একদিন এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। তাই মৃত্যুর আগে সওয়াবের জন্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। অহসায় দুঃস্থদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের জন্য সেবামূলক কাজ করছি। সে কারণে বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশন করা হচ্ছে।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করার পর আমার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করেছেন। নানাভাবে সহায়তা করেছেন এলাকাবাসিরা।

উল্লেখ্য, ফাউন্ডেশনের নিজস্ব সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ভোলা সদরে বাংলা স্কুল মোড়ে মেঘনা টাওয়ার নামে ৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন, বোরহান উদ্দিনে রয়েছে একটি এক তলা ভবন, রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে রয়েছে একটি ফ্লোর, গাজিপুরে ৫ বিঘা জমির উপর নির্মিত মসজিদ এতিমখানা হাফেজিয়া মাদ্রাসা।

এর আগে নিজাম উদ্দিন আহমেদ শহরে একটি চক্ষু হাসপাতাল, ১৫টি মসজিদ, এতিমখানা, একটি বৃদ্ধাশ্রম ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন।

প্রকাশের তারিখ- ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬