পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বীমা খাতে উচ্ছ্বাস

আবদুর রহমান আবির: বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর যাত্রা শুরু। বর্ণাঢ্য আয়োজনে আজ শনিবার (২৫ জুন) সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে বাস্তবে রূপায়িত হলো কোটি কোটি মানুষের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন।

প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত এই বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতুর উদ্বোধনে উচ্ছ্বসিত দেশের বীমা খাত। এই মহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে নানান আয়োজন করেছে বীমা কোম্পানিগুলো। সেতু দেখার কর্মসূচি গ্রহণসহ প্রধান কার্যালয় ও শাখাগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে ব্যানার।

বীমা কোম্পানিগুলোর স্থাপিত এসব ব্যানারে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পদ্মা সেতুর ছবি। এসব ব্যানারের কোনটিতে লেখা রয়েছে- “আত্মমর্যাদা, সাহস ও এগিয়ে যাওয়ার নাম ‘পদ্মা সেতু’। অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা”।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বীমা কোম্পানি তাদের কর্মী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে পদ্মা সেতু দেখার কর্মসূচির আয়োজন করেছে। একইসঙ্গে পদ্মা সেতুর কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় আশপাশের এলাকাগুলোতে থাকা ব্রাঞ্চ অফিসে আয়োজন করেছে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সভা।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও জেনিথ ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আমাদের কর্মচঞ্চলতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় পদ্মার ওপারের অফিসগুলোতে আমরা নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।  

এস এম নুরুজ্জামান আরো বলেন, কোম্পানির উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কর্মীদের মাঝে উৎসাহ বাড়াতে আমরা পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা মনে করি, এই ভ্রমনের মধ্য দিয়ে কর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা তৈরি হবে।

এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইভিপি ও হেড অব ট্রেইনিং এন্ড রিসার্চ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কোম্পানির দক্ষিণাঞ্চলের অফিসগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু পরিদর্শনের পাশাপাশি কোম্পানির এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

মাহমুদুল ইসলাম বলেন, উদ্বোধনের দিন সেতু পারাপারের সুযোগ না থাকায় পরের দিন এসব কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকা থেকে অন্তত ১০টি গাড়ি নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে এবং এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর (মূল সেতুর) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই সেতু মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা স্থলপথে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সাথে।