সংগঠিত হচ্ছেন বীমা কর্মীরা
আবদুর রহমান:
সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কর্মীরা। বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন বা মূখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের আদলে একটি সংগঠন গড়ে তুলতে চান বীমা কর্মীরা। এজন্য কাজ করছেন বেশ কয়েকজন বীমা কর্মী।
উদ্যোক্তরা বলছেন, বর্তমানে বীমা শিল্পে যে আস্থাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে তা কাটানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে তারা কাজ করতে চান। পাশাপাশি বীমা উন্নয়ন কর্মী ও কর্মকর্তাদের জীবন মান উন্নত করার লক্ষ্যে কল্যাণ ট্রাষ্ট ফান্ড গঠনে তারা কাজ করবেন। তাদের যেকোন প্রয়োজনে এগিয়ে আসবে এই সংগঠন।
উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বিআইএ এবং বিআইএফ এর বাইরে বীমাখাতের কর্মকর্তা ও কর্মীদের নিয়ে একটি জাতীয় সংগঠন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরইমধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রচারণা। সারাদেশ থেকে ভালো সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে, জানালেন উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তাদের একজন জিএম সজল। তিনি বেশ কিছু দিন ধরেই সংগঠন তৈরির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সজল কোন কোম্পানির উন্নয়ন কর্মকর্তা এ বিষয়ে একাধিকবার জানতে চেয়েও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে তার পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইনবেক্স তার সাথে আলাপকালে ইন্স্যুরেন্স নিউজবিডি'কে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হল আজ ৪৬ বছর। বিশাল বীমা সেক্টর তৈরি হল, অনেকের ভাগ্য খুলল। কিন্তু বীমা উন্নয়নে যারা আছে তাদের ভাগ্য খোলেনি। বীমা শিল্প যাদের হাত ধরে আজ বিশাল সেক্টরে পরিণত হয়েছে, সেই উন্নয়ন কর্মী আর কর্মকর্তাদের নেই কোন সংগঠন। তাদের ভাল মন্দ কথা বলার কোন রাস্তা এই শিল্পে নেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি সামনে রেখেই আমরা একটি সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। বীমা উন্নয়ন কর্মী ও কর্মকর্তাদের জন্য যেটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। "ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ" নামে আমরা এই সংগঠন করতে চাই। তবে নামের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের কার্যক্রম হবে দেশব্যাপী। এটা হবে জাতীয় সংগঠন।
জিএম সজল আরো জানান, সংগঠনের জন্য প্রচারণা শুরু হয়েছে কয়েক বছর হল। বর্তমানে সারাদেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সংগঠন গড়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন নেয়া হবে। আমাদের আইন উপদেষ্টা পরিষদে স্বনামধন্য ব্যারিস্টার ও হাইকোটের বেশ কয়েকজন উকিল আছেন। সংগঠনের নিবন্ধন ও যেকোন আইনি সহায়তায় তারা কাজ করবেন বলে জানান সজল।
ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মো. সোহেল আলম ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'কে বলেন, এটা একটা চমৎকার উদ্যোগ। বীমা কর্মীদের যেকোন দাবি-দাওয়া আদায় করার জন্য একটি মজবুত সংগঠন দরকার। যেটা কর্মীদের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসবে, তাদের পক্ষে কথা বলবে। সার্বিকভাবে বীমা শিল্পের উত্তোরত্তর অগ্রগতির জন্য কাজ করবে এ সংগঠন। বীমা কোম্পানিগুলোর ডেভেলপমেন্টে যারা কাজ করছেন তাদের সবাইকে সংগঠনটি দাঁড় করানোর জন্য এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (উন্নয়ন) ও টাঙ্গাইল ইন্স্যুরেন্স অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম সরকার লিমন ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'কে বলেন, বীমা কর্মীদের জাতীয়ভাবে একটি সংগঠন থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটা না থাকায় কর্মী ও মালিক পক্ষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় আমাদের প্রতি অন্যায়-অবিচার হয়। কিন্তু আমাদের হয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। আমাদেরও ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু সেটা উৎরানোর পথও রয়েছে।
তিনি বলেন, এমডি ও চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে কখনো মামলা হলে কোম্পানি সেটা সামাল দেয়। কিন্তু একজন মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলে কখনো কোম্পানি এগিয়ে আসে না। প্রতিষ্ঠানের কারণে কর্মীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। কিন্তু এটা দেখার কেউ নেই। তাই জাতীয়ভাবে বীমা কর্মীদের একটা সংগঠন থাকা প্রয়োজন। যেটা বীমা কর্মীদের প্রয়োজনের পাশে থাকবে। তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবে।
বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইভিপি ও টাঙ্গাইল ইন্স্যুরেন্স অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার ইব্রাহীম খলিল বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বীমাখাত অবহেলিত ছিল। সময়ের প্রয়োজনে এর গুরুত্ব বাড়ছে। কিন্তু বীমাখাতের এই অগ্রগতিতে আমরা যারা কাজ করছি তারা নানাভাবে মালিকপক্ষের প্রতারণার শিকার হচ্ছি। তাদের কারণে আমরা গ্রাহকদের সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছি না। আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে।
এসব বিষয় সামনে রেখে আমরা বেশ কিছু দিন ধরে একটা সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করছি। কিন্তু মালিক পক্ষের বাধার কারণে আমরা সেভাবে এগুতে পারি নাই। সর্বশেষ গত বছর বীমা মেলায় আমরা একত্র হয়ে টাঙ্গাইল ইন্স্যুরেন্স অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছি। তবে এখনো আমাদের কর্মকাণ্ড সেভাবে শুরু করতে পারিনি। এরইমধ্যে জাতীয়ভাবে একটা সংগঠন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে- এটাকে আমরা সবাই মিলে সফল করতে চাই।
গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বীমা কর্মীদের সংগঠনের বিষয়ে লিখেছেন, "এরকম সংগঠন খুবই দরকার। এতে করে বীমা কর্মীর দুঃখ বলার জায়গা হবে। আমি সবাইকে এই সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে বলবো।"