শ্রমিকদের গ্রুপ বীমা করতে হবে বীমা কোম্পানিতে: মানিক চন্দ্র দে
নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রমিকদের গ্রুপ বীমা করতে হবে বীমা কোম্পানিতে। মন্ত্রণালয়গুলো এ বীমা করতে পারবে না। একই সাথে মন্ত্রণালয়গুলো প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের জন্য নিজেরা বীমা করতে পারবে না, এটা করতে হবে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দ্বারা- বিষয়টি তাদের বুঝানোর দায়িত্ব আমাদের, এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে।
তিনি বলেন, আসলে তারা নিজেরা এ বীমা করতে পারে না। এটা করতে হবে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দ্বারা। এটা করার জন্য একটা কনসেপ্ট পেপার তৈরি করে দিতে হবে আইডিআরএকে।
আজ মঙ্গলবার 'বাংলাদেশের বীমা শিল্পের বর্তমান অবস্থা: বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি’র সহযোগীতায় বীমাকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এ গোলটেবিল আলোচনা আয়োজন করে।
আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইডিআরএ'র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।
গোলটেবিল আলোচনায় সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তাদের বীমা, শ্রমিকদের বাধ্যতামুলক গ্রুপ বীমার বিষয়ে উঠে আসা বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছু দিন আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দেখি তাদের গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স বা স্বাস্থ্য বীমা নিজেদের উদ্যোগে নিজেরা করছে। এ বিষয়ে আমরা তাদের বলতে গেলে তারা আমাদের সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেন।
তিনি বলেন, এরকম বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আমাদের আসে, সেগুলো মোকাবেলা করেই আমারা এগিয়ে যাচ্ছি।
মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বীমা করার বিষয়ে তিনি বলেন, মাইক্রো ফাইন্যান্স যারা করে তারা নিজেরা বীমা করে- এসব বিষয় নিয়ে আমরা শিগগিরই বসবো।
আলোচনায় বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনায় বিভিন্ন বক্তা বিভিন্ন পয়েন্টে কথা বলেছেন। আমি যতটুকু পেরেছি নোট করেছি। এগুলো সাম-আপ করে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পেশ করবো। এ নিয়ে আমরা বসবো, কথা বলবো।
নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আইডিআরএ কাজ করছে, আমরাও কাজ করার চেষ্টা করছি।
বীমা আইন অনুসারে বিধি-বিধান তৈরি ও বীমা আইনের ত্রুটি সম্পর্কে বক্তাদের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো আইন-কানুন বিধি-বিধান তৈরি করা। আইনগুলো তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা আমরা দেখি। আইডিআরএ'র আইনটির খসড়া তৈরি করে দেয়। তার পরে এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ড্রাফটিং এর জন্য। সেখানে অনেক সময় এমন সব পরিবর্তন চলে আসে যেটা মূল কনসেপ্টেরই সম্পূর্ণ বিপরীত। ফলে আমাদেরকে তা আবার আইডিআরএ পাঠাতে হয়। আইডিআরএকে আবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। এসব নানান রকম সমস্যার মধ্য দিয়েও উৎরিয়ে যাচ্ছি, এগুচ্ছি।
তিনি বলেন, বিশ্বে বীমা কোম্পানিগুলো নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে এগুচ্ছে। এ সময়ে তিনি বীমা খাতের উন্নয়নে দেশিয় বীমা কোম্পানিগুলোকে নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে আসার আহবান জানান।