সৌদি নারীর ড্রাইভিং অনুমতি, বীমাখাতে ব্যবসা প্রসার
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব। ফলে এখন থেকে দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালাতে আর কোনো বাধা নেই। মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এ সংক্রান্ত একটি ফরমান জারি করেছেন।
এদিকে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় মোটর বীমাখাত ব্যাপকভাবে সুবিধা লাভ করবে বলে মনে করছেন বীমা সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দেশটিতে মোটর গাড়ির বীমা করা বাধ্যতামূলক। তাই এই আদেশ কার্যকর হলে গাড়ি বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে মোটর বীমার পলিসি বিক্রি।
গাড়ির বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলএমসি অটোমোটিভ রয়টার্সকে জানিয়েছে, নারীদের ড্রাইভিং এর অনুমোদন সৌদি আরবে গাড়ি বিক্রি প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়াতে পারে। বর্তমানে প্রাপ্ত বয়স্কদের হাজারে ২২০টি গাড়ি রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এর পরিমাণ ৩০০ তে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বেশি গাড়ি বাজারে প্রবেশের স্বাভাবিক অর্থ হচ্ছে বীমা বিক্রি আরো বাড়বে। মিডল ইস্টার্ন বিজনেস পোর্টাল এএমইইনফো'র প্রতিবেদন অনুসারে, ধসে পড়া বীমাখাতে কিছু অতিরিক্ত শক্তির যোগান দিতে ভালো কাজ করবে এই অগ্রগতি।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আল বিলাদ ক্যাপিটাল এর ২০১৬ সালের তথ্যে দেখানো হয়েছে যে, সৌদি আরবের বীমাখাতে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ। এরআগে ২০১৫ সালে এই অগ্রগতির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সৌদি আরবের বীমাখাতে হেলথ ও মোটর ইন্স্যুরেন্সের মতো বাধ্যতামূলক বীমা এখনো এই খাতে প্রাধান্য বিস্তার করছে। দেশটির বীমাখাতের ৮৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে হেলথ ও মোটর ইন্স্যুরেন্সে।
এছাড়া ২০১৬ সালে দেশটিতে বীমার ঘনাঙ্ক ১৮.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭১ রিয়াল বা ৩৩৯ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এরআগে ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৬১ রিয়াল বা ৪১৬ মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, বীমার ঘনাঙ্ক নির্ণেয় করা হয় এই খাতে মাথাপিছু ব্যয়ের হিসাব অনুসারে।
নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় মোটর ইন্স্যুরেন্স খাতে অগ্রগতির মাধ্যমে বীমার ঘনাঙ্ক সমতাবিধান করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ সৌদিতে মোটর ইন্স্যুরেন্স খাতে অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ২.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আল বিলাদ এর প্রতিবেদন অনুসারে, পূর্ণবিকশিত বীমা বাজারের তুলনায় সৌদি আরবের বীমাখাতের প্রবেশের ক্ষমতা ও ঘনাঙ্কের হার কম। এর অর্থ হচ্ছে দেশটির বীমাখাত এখনো উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রয়েছে ব্যাপক ভবিষ্যৎ সুযোগ ও সম্ভাবনা, যা এখন পর্যন্ত অব্যবহৃত।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, রাজকীয় এই ডিক্রি মোতাবেক নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে মন্ত্রণালয়। তবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে এই আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।