নেপাল বিমান দুর্ঘটনা: পুনর্বীমার ৭ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করল এসবিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেপাল বিমান দুর্ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর বীমাকারী সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সকে পুনর্বীমা দাবি বাবদ ৭ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) । আজ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে এসবিসি'র প্রধান কার্যালয়ে এই চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বীমা দাবির চেকটি সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম এর নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় এসবিসি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসানসহ বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসবিসি'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর এয়ারক্রাফট দুর্ঘটনায় পুনর্বীমাকারী হিসেবে সাধারণ বীমা করপোরেশনের অংশ ৭ লাখ মার্কিন ডলার (১ ডলার= ৮৩ টাকা হিসেবে ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা) পরিশোধ করা হল।

তিনি জানান, এরআগে গত ২২ মার্চ বিদেশি পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান ৪১ লাখ ৭২ হাজার মার্কিন ডলার (৩৪ কোটি ৬২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা) পরিশোধ করেছে। যা সরাসরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে দেয়া হয়েছে। বাকী অর্থ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর এয়ারক্রাফট দুর্ঘটনায় বীমাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স বীমা দাবির ৭ লাখ মার্কিন ডলারও এ সপ্তাহের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জরিপ প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন কিছুই বলা যাবে না। জরিপকারীদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর যতদ্রুত সম্ভব যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান।

শফিক শামীম আরো বলেন, যাত্রীদের বীমা দাবির অর্থ পরিশোধ করা হবে লিগ্যাল ফার্মের মাধ্যমে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের দাবি দেয়া হবে। আর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানে যাত্রী কারা। তবে সকল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স জড়িত থাকবে।

এর আগে সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের এই মূখ্য নির্বাহী জানিয়েছিলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এর দুর্ঘটনা কবলিত বিএস ২১১ ফ্লাইটের জন্য কমপ্রিহেনসিভ ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ নেয়া হয়েছে। মোট লায়াবিলিটি ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে প্লেনের জন্য কাভারেজ ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিমানের টিকিট কাটলেই যাত্রীরা বীমার আওতায় চলে আসে।

গত ১২ মার্চ সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এর বিএস ২১১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় পড়ে স্থানীয় সময় বেলা ২:১৮টায়। বিমানটিতে সর্বমোট আরোহী ছিলেন ৭১ জন। এরমধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিমানটিতে ৩৬ জন বাংলাদেশি যাত্রীর মধ্যে ৪ জন ক্রু এবং ২২ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ১০ জন।