ফারইষ্ট লাইফের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা দাবি পরিশোধ না করায় গ্রাহকের দায়ের করা এক মামলায় ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের বিচার শুরু হয়েছে। আজ রোববার মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় চার্জ গঠন করেন রাজবাড়ীর একটি বিচারিক আদালত।

আগামী ১৬ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরপর ৩ ধার্য্য তারিখে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১ এর বিচারক আরিফুজ্জামান। বাদী পক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান সুজন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বীমা দাবির ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় গত বছরের ১৪ মার্চ রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে মামলা করেন রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম বাবু। দণ্ডবিধি ৪১৮/৪২০ ধারায় দায়ের করা এ মামলা নং-সি/আর ১৭৩/১৭। মামলায় বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে ১ নং আসামি এবং ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মো. মোজাম্মেল হককে ২ নং আসামি করা হয়।

এডভোকেট সুজন জানান, মামলার ১ নং আসামি মো. নজরুল ইসলাম পরপর ২ তারিখ হাজির না হয়ে সময় আবেদন করেন যা আদালত মঞ্জুর করেছিলেন। আজ তৃতীয় তারিখেও তিনি হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার সময় আবেদন না মঞ্জুর করে জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সাথে মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন।

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী স্বপ্না পারভীন ২০১৫ সালের ২৮ জুন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি পলিসি করেন। পলিসি নং ১২৬০০০০২০১-৩। এর ৭ মাস পরে ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি স্বপ্না পারভীন মারা যান।

মারা যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুদাবির টাকা আদায়ে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ফরিদপুর সার্ভিসিং সেলে আবেদন করে। এর ৫ মাস পর গত বছরের ১৯ জুলাই ফারইষ্ট ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অথচ পলিসির শর্ত অনুসারে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা।

পরবর্তীতে বাকি টাকা আদায়ে কোম্পানিতে যোগাযোগ করেন রফিকুল। এ সময় এত বড় অংকের টাকা একবারে দিতে পারবে না বলে জানায় ফরিদপুর সার্ভিসিং সেলের কর্মকর্তারা। কিন্তু এর কিছু দিন পরেই আবার কর্মকর্তারা জানান তিনি আর কোনো টাকা পাবেন না।

পরবর্তীতে দাবির টাকা আদায়ে ২ বার উকিল নোটিশ করেন রফিকুল। এতেও কোম্পানি থেকে টাকা পরিশোধ না করায় গত বছরের ১৪ মার্চ রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই শেষে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান।

এরপর ২৩ এপ্রিল রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদালতে হাজির না হওয়ায় ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে পলাতক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি এবং সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। অপর আসামি ব্রাঞ্চ কো-অর্ডিনেটর মোজাম্মেল হকের জামিনের মেয়াদ পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এরপর ২৫ এপ্রিল রাজবাড়ির আদালতে গিয়ে জামিন আবেদন করেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে মামলাটি বিচারিক আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।