স্বজনের চোখের জল মাটিতে ফেলার আগেই মৃত্যুদাবি পরিশোধের আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বজনের চোখের জল মাটিতে ফেলার আগেই বীমা গ্রাহকের মৃত্যুদাবি পরিশোধের আহবান জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ। আজ বুধবার রাজধানীতে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিজনেস কনফারেন্স ও বীমা দাবির চেক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান।

বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, এত শীঘ্র বীমা দাবি পরিশোধ করলে কেউ আপনাদের আটকাতে পারবে না, সামনে এগিয়ে যাবেন। উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বীমা গ্রাহকের মৃত্যু অভিসম্ভাবী হলের তার পাশে দাঁড়াবেন। আপনাদের এজেন্টকে বলে দিবেন পাশে দাঁড়াতে। গ্রাহকের মৃত্যুর পর তার জানাযা, দাফন-কাফনে দাঁড়াবেন। এতে নতুন গ্রাহকের সঙ্গে পরিচয় হয়ে যাবে, কোন এডভার্টাইজমেন্টের প্রয়োজন হবে না।

তাকাফুল ইজ দ্যা বেস্ট ইন্স্যুরেন্স উল্লেখ করে আইডিআরএ'র এই সদস্য বলেন, তাকাফুল গ্রাহককে লাভ দেয় কিন্তু এখানে রিবা'র কোন স্থান নেই। সৎ ধর্ম ইসলাম, তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই তাকাফুল। এটা আমাদের তৈরি আইন নয়। হাজার হাজার বছর আগে আরব দেশে জন্ম হয়েছিল এই ইসলামী ইন্স্যুরেন্স। সেটাকে সংশোধন করে সব শর্ত পূরণ করার পর ইসলাম তাকাফুল বীমাকে অনুমোদন দিয়েছে।

বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনাদের কোন দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই। এটা উপর থেকে আসে। ইসলাম চাইলে আপনারা এগিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, গ্রামে-গঞ্জে আপনার তাকাফুলের যে বীমা করছেন, কাউকে কষ্ট দিবেন না। আপনারা বিবেক দিয়ে কাজ করবেন। বিবেকের কাছে প্রশ্ন করবেন, কার বীমা করবেন আর কার বীমা করবেন না। তাহলে কোন সমস্যা হবে না।

বীমা কোম্পানিগুলোকে নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা হেলথ ইন্স্যুরেন্স আটকে দিয়েছি। কারণ, যাদের হেলথ পলিসি নিবেন, তাদের চিকিৎসা দিবেন কিভাবে? এই বীমার জন্য প্রয়োজনীয় হাসপাতাল ও ডাক্তার কোথায়? শুধু পলিসি ইস্যু করলে হবে না, তাদের চিকিৎসা দিতে হবে।

কেওয়াইসি (নো ইওর কাস্টমার) ফরমের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা খুবই সহজ এবং স্বাভাবিক। সরকার অর্ডার দিয়েছে, আপনার গ্রাহককে চিনে নিন। এই চিনতে গিয়ে যা যা প্রয়োজন তার একটি ছক করে দিয়েছে, এটাই কেওয়াইসি ফরম। এটা আপনারা পুরণ করে দিবেন। এতে ভয়ের কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে কোম্পানিটির এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মো. হেলাল মিয়া বলেন, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের প্রায় ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এটা দেশ ও দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। তিনি কোম্পানির কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কারো পাওনা আটকে রাখবে না। আইন মেনে কাজ করবেন, আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা যাবে না।

কোম্পানির মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. হেমায়েত উল্যাহ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ২ হাজার কোটি টাকা প্রিমিয়াম অর্জনের ইতিহাস সৃষ্টি করবে। তিনি জানান, এ বছর কোম্পানির ৫০০ সাংগঠনিক অফিসকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হবে।

বিজনেস কনফারেন্স ও বীমা দাবির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। নির্বাহীবৃন্দ, ডিভিশনাল ইনচার্জ, সার্ভিস সেন্টার ইনচার্জ, জোনাল ইনচার্জ ও সাংগঠনিক অফিসের বাছাইকৃত কর্মীসহ প্রায় সাড়ে ৬শ' জন এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ডিভিশনাল ইনচার্জদের হাতে ৩৪ কোটি ৪১ লাখ ৩১ হাজার ৪৭০ টাকা বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়। এসময় ১জন বীমা গ্রাহকের মৃত্যুদাবি বাবদ ১৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫০ টাকার চেকও হস্তান্তর করা হয়।