ভুল থাকলে গ্রাহককে ২৫ লাখ নয়, ১ কোটি টাকা দেব

রাজবাড়ীর মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ফারইষ্ট চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি ঘটনাটির জন্য কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের দোষারোপ করেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ বুধবার ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের বিজনেস কনফারেন্স ও বীমা দাবির চেক প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানিটির অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি রাজবাড়ীর মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তের অনুষ্ঠিত ওই কনফারেন্সে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ভিতরে বাইরে শত্রু রয়েছে। তা না হলে রাজবাড়ীর মত ছোট্ট একটি জেলায় মামলা নিয়ে যে পলিটিক্স শুরু হয়েছে তা ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার সুনাম নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, আমি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে আহবান করবো আপনারা ফাইলটি আবার রিকল করেন। আপনারা এর সমাধান দেন। আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে তাহলে গ্রাহকের দাবি অনুসারে ২৫ লাখ টাকা নয়, ১ কোটি টাকা দেব।

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান বলেন, রাজবাড়ীর ওই নারী বীমা গ্রাহক মিস ডিক্লারেশন দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "আমি গর্ভবতী না"। কিন্তু সাড়ে ৩ মাস পর তিনি মৃত্যুবরণ করেছে ডেলিভারির সময়। সেই সময় ক্লেইম হয়েছে। মাত্র ১০ লাখ টাকার পলিসি, ১ লাখ ৫ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়েছে।

তিনি বলেন, ইডরার একজন মেম্বর (উপস্থিত) আছেন তিনি জাস্টিস তার জানা উচিত। ইডরাতে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমি জানি। এসোসিয়েশনে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসোসিয়েশনের বাইরেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকের বীমা দাবিটি কোম্পানিতে ডিক্লাইন (প্রত্যাখ্যান) হওয়ার পর তারা ইডরাতে নালিস করেছে। সেখানে এ নিয়ে একটি শুনানী হওয়ার পর ফাইলটি ক্লোজ করে দেয়া হয়। তবে সে সময় আমাদের ডিভিশনাল ইনচার্জের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে আমরা বোর্ড থেকে গ্রাহককে ৬ লাখ ৩০ হাজার দেই। যা গ্রাহকের নমিনি স্বতস্ফূর্তভাবে সাইন-সিগ্নেচার করে নিয়ে গেলেন।

কিন্তু এক বছর পর আমরা দেখতে পেলাম একটা নোটিশ ইস্যু করেছে। নোটিশটি আমাদের সার্ভ না করে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নিউজ করে দিলেন যে, "বীমা দাবি পরিশোধ না করায় ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হুলিয়া এবং তার সম্পত্তি ক্রোক"।

তিনি বলেন, যারা এই ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে আছেন তারা জানেন এই মামলা কি। কিন্তু যারা ইন্ডাস্ট্রির বাইরে আছেন তারা বুঝতে পারে না। সে ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগতভাবে আমার সুনাম নষ্ট হয়েছে। কোম্পানির সুনাম বিনষ্ট হয়েছে। আমরা সে সময় চিন্তা করেছিলাম ব্যবসা কম হবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের সহায় ছিলেন বলে আমরা ১ হাজার ১২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছি।

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, সেই মামলার আমি হাজিরা দিয়েছি, বেইল হয়েছে। তারা আমাদের সাথে আপোষ মিমাংশ করতে চেয়েছে, আমাকে সরাসরি ফোন করেছে। আমি এমডি সাহেবকে বলেছিলাম যে, আপোষ মিমাংশা করবেন কিনা, করলে করেন। এমডি সাহেব বলল যে, এই মামলাটি আমাদের কষ্ট দিয়েছে। মামলাটি আমরা ট্রান্সফার করে ঢাকায় নিয়ে আসব, আমাদের ল'য়াররা যেভাবে বুদ্ধি দিয়েছে।   

আইনজীবীদের দোষারোপ করে ফারইষ্ট চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ল'য়াররা আমাদের সুপরামর্শ দেয় না। এটা আমরা জানতাম যে, ল'য়াররা সব সময় মামলা জিইয়ে রাখতে চায়। আমাদের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। গত ৮ তারিখে আমাদের হাজিরার ডেট ছিল। আমি এমডি সাহেবকে বলেছি যে, আপনি যদি মিমাংশা না করেন; ১০০ বারও যদি আমার রাজবাড়ী যেতে হয় আমি যাব।

আমি সেই লক্ষ্যে ৭ তারিখে এমডি সাহেবকে বললাম যে, আমার যদি যেতে হয় কালকে সকালে আমি যাব। সেখানে এমডি সাহেব, সেক্রেটারি সাহেব, অন্যান্য যারা আছেন এবং আমাদের প্যানেল ল'য়াররা বললেন, স্যার যেতে হবে না আজকে আমরা টাইম নিয়ে নেব। একসাথে আমরা হেয়ারিং করব পনের তারিখে। আমি গেলাম না। কিন্তু না যাওয়াতে দেখা গেল যে, আবার বেইল ক্যানসেল হয়ে গেছে; ওরেন্ট ইস্যু হয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের ভূমিকার সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের যারা জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন তারা এই ঠুনকো জিনিস আবার পেপার-পত্রিকায় উঠায়ে দিলেন ফারইষ্টের মান-সম্মান নষ্ট করার জন্য, আমার ব্যক্তিগত ইমেজ নষ্ট করার জন্য। এটা নিয়ে সারা বাংলাদেশে আবার ঝড় উঠল। পরের দিনই আমি যেয়ে বেইল নিলাম।

তিনি আরো বলেন, তারা (গ্রাহকের স্বজনরা) এসেছিলেন আমার হোটেলে। আবার মিমাংশার কথা বললেন। আমি এমডি সাহেবকে বললাম, ঠিক আছে আপনি মিমাংশা করে ফেলেন। সেখানে আমরা মিমাংশায়... একচ্যুয়ালি তারা এক পয়সাও পাবে না, এটা কোন ক্লেইম-ই হয় না।

রাজবাড়ীর বীমা গ্রাহকের দাবির ফাইলটি রিকল করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি জাস্টিস বোরহান উদ্দিন সাহেবকে অনুরোধ জানাব, ফাইলটা আবার আপনি রিকল করেন। রিকল করে আপনি এক্মামিন করে দেখেন এখানে ফারইষ্টের কোন ভুল ত্রুটি আছে কিনা। যদি ভুল ত্রুটি থাকে তিনি (বীমা গ্রাহক) ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন, আমরা ১ কোটি টাকা দেব। আর যদি ভুল ত্রুটি না থাকে তাহলে এটার বিচার করেন। এটা ইডরাকে বলেন, এসোসিয়েশনকে বলেন এবং সমস্ত ইন্ডাস্ট্রিকে বলেন।

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গ্রাহক মিস ডিক্লারেশন দিয়েছেন কিন্তু আমাদের অফিসাররা কি করেছেন? এখানে অফিসাররাও সংশ্লিষ্ট ছিল, সেটা আমরা ফাইন্ডিং করেছি। সেটা আমরা বিচারের আওতায় আনব। এমডি সাহেবকে নির্দেশনা দিয়েছি যে, এরকম যদি কেউ কাজ করে, সেটা যদি প্রমাণ হয়। তাহলে আপনারা সেটা শক্ত হাতে সেটি প্রতিহত করবেন।