মেটলাইফের ‘সারথী’: ব্যাংক একাউন্টে যাবে গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন
নিজস্ব প্রতিবেদক: গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের লক্ষ্যে 'সারথী’ নামে প্রকল্প হাতে নিয়েছে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের ৩০টি গার্মেন্টসের শ্রমিক তাদের বেতন-ভাতা পাবেন নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে। বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম ও বিকেএমইএ’র ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর আহমেদ।
মেটলাইফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারথী প্রকল্পের আওতায় ৩০টি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা হবে। এসব গার্মেন্টেসের শ্রমিকদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেয়া হবে। এ জন্য ব্যাংক হিসাব খুলতে শ্রমিকদের কোন টাকা দিতে হবে না এবং হিসাব সচল রাখতে শ্রমিকদের বেতন থেকে কোন টাকা কাটা হবে না। মেটলাইফের সঙ্গে এই প্রকল্পে যৌথভাবে আছে সুইসকনট্যাক্ট।
সারথীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সবাইকে আমরা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি করণের লক্ষ্যে কাজ করছি। আর্থিক ব্যবস্থাপনাটা ছড়িয়ে পড়লে খুব উপকার হবে। একটি বিষয় স্বীকার করতেই হয় দারিদ্রতা শুধু আমাদের মূল সমস্যা না। অতিচাপ বা বিচারহীনতা আরও বেশি ক্ষতি করে। সেই বিচারহীনতা আমরা দূর করতে পারব না।
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলে আমরা বেসরকারি খাতকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। বেসরকার খাতকে আমরা অহেতুক বেশি সুযোগ দিচ্ছি না। আমাদের দেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশ বেসরকারি খাতের হাতে আছে। কিন্তু এটা ঠিক না আমরা পুরোপুরি বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি। আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে বা আইন আছে। আইনের মাধ্যমে আমরা বেসরকারি খাতের ওপর হাত রাখছি।
অর্থনীতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আমরা না বুঝে, না শুনে যদি আমরা খোঁচাখোঁচি করি তাহলে বড় রকমের ক্ষতি হতে পারে। সে জন্য আমরা অত্যন্ত সাবধানে হাত দেই। অন্যায় হলে, ডাকাতি হলে, লুণ্ঠন হলে আমরা দায়িত্বশীলভাবে হাত দেই।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কথা উঠেছে আমাদের এখানে ব্যবসা করার ব্যয় বেশি। আমরা এটি কমানোর চেষ্টা করছি। আপনারাও এর জন্য চেষ্টা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যের আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বলেন, ২০১১ সালের আগে বাংলাদেশে বীমাখতের শক্তিশালী কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না। ২০১১ সালে নতুন আইন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক বিধিমালা করা হয়নি। যে কারণে আমাদের এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১৯৩৮ সালের আইন ফলো করতে হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্ত: ইকোসিস্টেম নির্মাণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সুইসকনট্যাক্ট’র কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বান ভৌমিক’র সঞ্চলনায় এতে বক্তব্য রাখেন মেটলাইফের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হামাদুল করিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী, ইকোটেক্স লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ বিন কাশেম, দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন, সারথী প্রকল্পের টিম লিডার মাহফুজ মমতাজুর রহমান প্রমুখ।