রাজিয়া বেগমকে আইডিআরএ’র কনসালট্যান্ট নিয়োগ কেন বেআইনি নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এ কনসালট্যান্ট (পরামর্শক) নিয়োগ কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুলনিশি জারি করেছে হাইকোর্ট। গত ৩০ মার্চ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরি এবং বিচারপতি একেএম জহিরুল ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সংস্থাটির উর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদুল মুসলিমের রীটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ রুল জারি করেন। রীটে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, আইডিআরএ, সংস্থাটির চেয়ারম্যান, সদস্য (আইনবিভাগ), সদস্য (নন-লাইফ), সদস্য (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন), সদস্য (লাইফ) এবং সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির ডেপুটি মেম্বার সেক্রেটারি ও কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজিয়া বেগম।
রীটে বলা হয়েছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ এর ১১ ধারা অনুযায়ী হিসাব রক্ষক, অ্যাকচ্যুয়ারি, আইনজ্ঞ, জরিপকারী, মূল্যায়নকারী এবং শরীয়াহ বিশেষজ্ঞসহ পেশাজীবীদের মধ্য থেকে পরামর্শক নিয়োগ করিতে পারিবে। তাদের নিয়োগের শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। কিন্তু রাজিয়া বেগমের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ আইন মানা হয়নি।
রীটে উল্লেখ করা হয়, সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির প্রবিধানমালা-২০১৩ অনুযায়ী, আইডিআরএ’র একজন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির সদস্য সচিব নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু আইডিআরএ উক্ত প্রবিধান লংঘন করে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি রাজিয়া বেগমকে কনসালট্যান্ট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। সেই সঙ্গে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির ডেপুটি সেক্রেটারিরও দায়িত্ব দেয়। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি এ চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়।
এর আগে রাজিয়া বেগমকে ২০০৭ সালে একবার বিলুপ্ত ‘বীমা অধিদপ্তর’ এ সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির ডেপুটি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। আইডিআরএ প্রতিষ্ঠার পরও তিনি পূর্ব নিয়োগের ভিত্তিতে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রাজিয়া বেগমের বয়সও বেশি। তার জন্ম ১৯৪৮ সালের ৬ আগষ্ট। এ হিসেবে রাজিয়া বেগমের বয়স এখন ৬৯ বছর। পক্ষান্তরে আইডিআরএ’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বয়স সীমা ৬৭ বছর।
এসব বিষয় চ্যালেঞ্জ করে রীট করা হয়। রীটের প্রাথমিক শুনানি শেষে উপরোক্ত রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রীটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল ভৌমিক। সরকারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সহকারি এটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় (আনন্দ) ও জেসমিন সুলতানা সামশাদ।