মার্চের বেতন-ভাতা ও কমিশন পাননি অনেক বীমা কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্চ মাসের বেতন-ভাতা ও কমিশন এখনো হাতে পাননি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বেশ কিছু বীমা কোম্পানির অনেক এজেন্ট, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কোম্পানিগুলো বলছে, সারাদেশে ব্যাংকের সকল শাখা খোলা না থাকায় বেতন-ভাতা ও কমিশন সবার কাছে পাঠানো যাচ্ছে না। তবে বিকল্প মাধ্যমে তারা টাকা পাঠানোর চেষ্টা করছেন। খুব শিগগিরই এসব বীমা কর্মী তাদের বেতন-ভাতা ও কমিশন হাতে পাবেন।

তথ্য মতে, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছু্টি ঘোষণা করেছে সরকার। গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই ছুটি। এ অবস্থায় বন্ধ রয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান। বীমাখাতেও এই ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা দিতে ব্যাংকগুলোর কিছু শাখায় সীমিত আকারে চলছে লেনদেন।

এদিকে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় এমনিতেই বিপাকে পড়েছেন দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির কমিশন ভিত্তিক এজেন্টরা। নিয়ম অনুসারে বীমা পলিসি বিক্রির নির্ধারিত কমিশনের বাইরে তাদের কোন বেতন-ভাতা নেই। অন্যদিকে সাধারণ ছুটিতে ব্যাংকের অনেক শাখা কার্যালয় বন্ধ থাকায় গত মার্চের বেতন-ভাতা ও কমিশন সবার কাছে পাঠাতে পারেনি বীমা কোম্পানিগুলো। এ অবস্থায় চরম সংকটের মুখে বীমা কর্মীরা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি ৭৮টি লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। নতুন আরেকটি লাইফ বীমা কোম্পানি সম্প্রতি অনুমোদন লাভ করেছে। এজেন্ট ও এমপ্লয়ার অব এজেন্টসহ এসব বীমা কোম্পানির বিভিন্ন পদে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ নারী-পুরুষ।

২০১৮ সালের হিসাব অনুসারে দেশের ৩২টি লাইফ বীমা কোম্পানির এজেন্ট সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৫১। আর এমপ্লয়ার অব এজেন্ট রয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ১৭৮। অন্যদিকে ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির এজেন্ট সংখ্যা ২ হাজার ৬০৭। সংশ্লিষ্টরা বলছেন বর্তমানে এজেন্ট ও এমপ্লয়ার অব এজেন্ট সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, আমাদের এজেন্ট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং কমিশন আমরা সময় মতো তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়েছি। তবে দেশের কিছু কিছু এলাকায় আমাদের নির্ধারিত ব্যাংকের শাখা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেকের হাতে বেতন-ভাতা ও কমিশন এখনো পৌঁছেনি। তবে খুব শিগগিরই বিকল্প মাধ্যমে তাদের টাকা পাঠানোর চেষ্টা করছি।    

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম শরীফুল ইসলাম বলেন, অফিস বন্ধ থাকার পরও আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বীমা কর্মীদের বেতন-ভাতা ও কমিশন পাঠানোর চেষ্টা করেছি। তবে কিছু কিছু এলাকায় ব্যাংক বন্ধ থাকায় তারা টাকা তুলতে পারছেন না। এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ওই সব বীমা কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প মাধ্যমে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তারাও টাকা হাতে পাবেন।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম বলেন, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বেতনভুক্ত। কমিশন ভিত্তিক কোন কর্মী আমাদের প্রতিষ্ঠানে নেই। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সবার বেতন-ভাতা দেয়া হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আমরা মার্চের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছি। এপ্রিলের বেতন-ভাতাও একইভাবে পাঠানো হবে।

গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মনিরুল আলম বলেন, সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আমরা আমাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও এজেন্টদের মার্চ মাসের বেতন-ভাতা এবং কমিশন দিয়েছি। একইসঙ্গে তাদের এক মাসের গড় আয়ের সমান অর্থ দিয়েছি। এটা কোন অনুদান নয়, একটা সহযোগিতা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে তারা ব্যবসা সংগ্রহের মাধ্যমে এই অর্থ সমন্বয় করতে পারবে।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা বন্ধের আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছি। করোনার ঝুঁকি নিয়ে কাউকে আমরা অফিসে আনতে চাই না। তবে এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় দু’একজন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি। অফিস বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে আমরা পরবর্তী মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার চেষ্টা করবো।