রীট খারিজ: প্রিমিয়াম হার দিতে পারবে সিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রজ্ঞাপন বাতিল করার ২ বছর পর উদ্যোগ নেয়ায় খারিজ হলো রীট। এর ফলে প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ করাসহ সকল ধরণের কার্যক্রম পরিচালনায় সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির আর কোনো বাধা থাকল না। রীট ২টি খারিজ করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান এবং আইডিআরএ’র পক্ষে অ্যাডভোকেট নাহিদ মাহতাব মামলা পরিচালনা করেন।

৮ মে এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় আইডিআরএ। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নিয়ে করা ২টি রিট খারিজ করেছেন বলে জানা গেছে।

হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশ থেকে জানা গেছে, মামলার সংশ্লিষ্ট ২৪ নম্বর সার্কুলার আগেই প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানান আইডিআএ’র আইনজীবী নাহিদ মাহতাব। সঙ্গত কারণেই রিট মামলা দু'টি নিস্ফল। কাজেই রিট দু'টিতে জারী করা রুল প্রত্যাহার এবং রিট দুটি খারিজ করার প্রার্থনা জানান নাহিদ।

এ আবেদন বিবেচনা করে রুল প্রতাহার করাসহ রিট দু'টি খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আইনি জটিলতায় পড়ে ২ বছর আগে নন-লাইফ বীমার বিশেষ মূল্যহার সংক্রান্ত ২৪ নং সার্কুলার প্রত্যাহার করে নেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । কিন্তু হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি করার কোন উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ঝুলে থাকে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি (সিআরসি)’র কার্যক্রম। 

সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট নন-লাইফ বীমাখাতে বিশেষ মূল্যহার তুলে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইডিআরএ। পরে ওই বছরই ২৮ সেপ্টেম্বর এ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রীট করে আবুল খায়ের মিল্ক প্রডাক্ট। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে আদেশ দেন। অপর একটি রিট করেন পিএইচপি গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী। এ রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করেন।

এ অবস্থায় বীমা আইন ২০১০ অনুসারে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠিত না হওয়ায় নন-লাইফ বীমাখাতে প্রিমিয়াম নির্ধারণী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণকারি কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ সুযোগটি কাজে লাগায় কোম্পানিগুলো। অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে নন-লাইফ বীমাখাত। আইডিআরএ'র কাছে রেট চেয়ে আবেদন করেই ব্যবসা করতে থাকে। রেটটি যাচাইয়ে আইডিআরএ'র কোন সুযোগ না থাকার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে কোম্পানিগুলো। এতে কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ে ও রাজস্ব আয়ে বিরুপ প্রভাব পড়ে। এ অবস্থা চলে আসছে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

সূত্র জানায়, আইডিআরএ'র সদস্য জুবের আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (প্রজ্ঞাপন নং-৩৯) সূত্র: জিএডি১০০৩/২০১১ সারক নং ৬৭৩ তাং ১৫-৫-২০১৪) ২৪ নং প্রজ্ঞাপনটির সকল আদেশ বাতিল করা হয়। এতে বলা হয়, নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো ২০১১ সালে ২৪ নং প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই প্রিমিয়াম হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ যে তারিখ থেকে বিশেষ সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল ওই তারিখ থেকে তা আবারও চালু করা হলো। ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট ২৪ নং প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছিল।

বীমা আইন ২০১০ এর ১৭ ধারা অনুসারে, প্রিমিয়ামের নতুন মূল্যহার ধার্য করা, অথবা পরিবর্তন, সংশোধন, বাতিল বা জারি করতে হলে আইডিআরএকে আগে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন করতে হবে। প্রিমিয়াম মূল্যহার সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। কিন্তু সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন না করেই এ সার্কুলারটি জারি করে আইডিআরএ।

সূত্র মতে, ২০১১ সালে ২৭ জানুয়ারি এম শেফাক আহমেদ একচ্যুয়ারিসহ আরো ৩ সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গঠিত হয়। কর্তৃপক্ষ গঠনের পর ওই বছরেরই আগস্ট মাসে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বিশেষ মূল্যহার তুলে দেয়া হয়।

এদিকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারিতে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি প্রবিধান পাস করে সরকার। একইসঙ্গে ওই বছরের এপ্রিল মাসে রেটিং কমিটি গঠনও করা হয়। কিন্তু বিশেষ মূল্যহার সংক্রান্ত ২৪ নং সার্কুলারের ওপর আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় রেটিং কার্যক্রম শুরু করতে পারে না নবগঠিত সিআরসি।

পরবর্তীতে জটিলতা নিরসনে আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চায় বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সরকারি এ সংস্থা। এর প্রেক্ষিতে আইডিআরএ'র আইন উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শামীম খালেদ আহমেদ এক মতামতে জানান, নতুন বীমা আইন ২০১০ অনুসারে সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত মূল্যহার সংশোধন সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আইডিআরএ'র নেই। ফলে ২৪ নং প্রজ্ঞাপনটি আইনসম্মত ছিল না। এ অবস্থায় ২৪ নং প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের পরামর্শ দেন তিনি। এ পরামর্শ অনুসারে ২৪ নং সার্কুলারটি বাতিল করা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বীমা আইন ২০১০ এর ১৬০ ধারার ২ উপধারা (ছ)'তে বলা হয়েছে, প্রণীত কোন বিধি বা প্রবিধান, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াসা পেক্ষে এবং রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷