লাইফ ফান্ড বেড়েছে মেঘনা লাইফে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি বীমা কোম্পানি মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ থেকে আয় কমলেও বেড়েছে লাইফ ফান্ড। তবে কোম্পানিটির ব্যয়ের হার আগের বছরের তুলনায় আরো কমে এসেছে। ২০২০ সালের ব্যবসা সমাপনীর হিসাব ও বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এই চিত্র।

বীমা কোম্পানিটি বলছে, করোনা মহামারীর কারণে কোম্পানির প্রিমিয়াম সংগ্রহ কিছুটা কমেছে। ফলে বিনিয়োগও কমেছে। অন্যদিকে ব্যাংক রেট কিছুটা কম থাকায় বিনিয়োগ থেকে আয়ও কম হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০ সাল শেষে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ৭৯০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গেলো বছরে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড বেড়েছে ৯৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে বীমা কোম্পানিটির বর্তমান বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যা আগের বছর ২০১৯ সালে ছিল ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সে হিসাবে ২০২০ সালে মেঘনা লাইফের বিনিয়োগ কমেছে ১৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

২০২০ সালে মেঘনা লাইফের বিনিয়োগ থেকে আয় এসেছে ৯৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা আগের বছর ২০১৯ সালে ছিল ১০২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে গেলো বছরে বীমা কোম্পানিটির বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তথ্য অনুসারে, মেঘনা লাইফ ২০২০ সালে মোট ৪১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম ৮০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, ২য় বর্ষ ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩য় ও তদুর্ধ্ব বর্ষের ২৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৯ সালে কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ৪৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গেলো বছরে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম সংগ্রহ কমেছে ২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০২০ সালে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থাপনা খাতে আরো ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ ব্যয় কমিয়েছে। আলোচ্য বছরে ১১২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন থাকলেও কোম্পানিটি ব্যয় করেছে ১০৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা মোট প্রিমিয়াম আয়ের ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৯ সালে এই ব্যয়ের হার ছিল ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এ বিষয়ে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ নির্বাহী কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র রুদ্র বলেন, করোনা মহামারীর কারণে গেলো বছর সবারই ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ গেছে। দীর্ঘদিনের লকডাউনে আমাদের প্রিমিয়াম সংগ্রহও কিছুটা কমেছে। আবার ব্যাংক রেট কিছুটা কম থাকায় বিনিয়োগ থেকে আয়ও কম হয়েছে। তবে আমাদের লাইফ ফান্ড বেড়েছে। একইসঙ্গে ব্যবস্থাপনা খাতেও আমাদের ব্যয় কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আশাকরি চলতি বছরে আমরা ভালো করতে পারব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ।  সংক্রমণ রোধে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দেশের ইতিহাসে ২ মাস ৪ দিনের এই দীর্ঘ ছুটির পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে খোলা হয় অফিস-আদালত। চালু হয় গণপরিবহনও।