গ্রুপ বীমা ও কল্যাণ তহবিল কোনটিই নেই শ্রমিকদের জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রুপ বীমা ও কল্যাণ তহবিল কোনটিই নেই সজীব গ্রুপের শ্রমিকদের জন্য। যদিও ওই গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম নিজেই একজন বীমা ব্যবসায়ী।

ফলে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে  ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকা করে জনপ্রতি ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। আজ সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে।

আজ কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন আইন অনুযায়ী শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও গ্রুপ বীমা বাধ্যতামূলক হলেও এ বিষয়ে জানে না ওই কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।

অপরদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের জন্য গ্রুপ বীমা নেই। এমনকি শ্রমিক কল্যাণ তহবিলও নেই।
অথচ সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম নিজেই বীমা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'কে জানান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন আইনে শ্রমিকদের কল্যাণে যা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল তা ওই প্রতিষ্ঠানে ছিল না। এজন্য আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটেছে ওই কারখানায়।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক এক নারী কর্মকর্তাকে ১২ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে চেক হাতে ঘুরতে দেখা যায়।

আজ শনিবার সকাল থেকেই কারখানাটি পরিদর্শনে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিকদের জন্য কোনো কল্যাণ তহবিল নেই। এমনকি গ্রুপ বীমার বিষয়ে তারা জানেন না।

সজীব গ্রুপের নারায়ণগঞ্জের ওই কারখানার ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. এমদাদুল হক এবং গেট দারোয়ান সামসুজ্জামান বলেন, আমাদের কোনা কল্যাণ তহবিল নেই। আর গ্রুপ বীমা আছে কি-না তা আমরা জানি না।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্নগোপ এলাকার ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে। ওই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবারও ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ১১০ কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। তবে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিটের। ওই ভবনে ওঠার জন্য মাত্র একটি লিফট ও একটি সিঁড়ি চালু রয়েছে। পেছনে আরো একটি সিঁড়ি থাকলেও ওটি অব্যবহৃত ছিল।

ভবনে নিচতলায় ছিল কাগজ ও বাঁধাইয়ের জন্য ফয়েল। আর দ্বিতীয় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত শ্রমিকরা সেজান জুস, টমেটো, সজীব মেঙ্গোবারসহ বেশ কয়েকটি পণ্য তৈরি করত। প্রত্যেক তলায় গেট তালাবদ্ধ ছিল। তাছাড়া আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ভবন ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল।

কারখানার ব্যাপারে ওঠা বেশ কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেছেন, ভবনে চারতলায় সিঁড়ির গেট তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে আটকা প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে।

আগুন নেভানোর পর তারা চারতলায় তালাবদ্ধ থাকায় ওই তলার একটি জায়গাতেই ৪৯ জনের মরদেহ পেয়েছিলেন। তাছাড়া কারখানার ভবনে আগুণ নেভানোর বা অগ্নিনির্বাপণের তেমন ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছিলেন এই ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা। এই কারখানার ফায়ারের কোনো অনুমোদন ছিল না বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

(ফিচারড ইমেজ সংগৃহীত)