আবদুর রহমান আবির: ২০২১ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান তথা বীমার পেনিট্রেশন ০.১ শতাংশ বেড়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইন্স্যুরেন্স: ইনফ্লেশন রিস্কস ফ্রন্ট এন্ড সেন্টার’ নামের সর্বশেষ সিগমা রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান সুইস রি গত ১৩ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান ছিল ০.৪ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে লাইফ বীমার অবদান ০.৪ শতাংশ এবং নন-লাইফের ০.১ শতাংশ। এছাড়া বীমা পেনিট্রেশনের র্যাংকিংয়ে ৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম, যা আগের বছরেও একই ছিল।
অঞ্চল ও দেশ ভিত্তিক প্রিমিয়াম আয়, জিডিপিতে বীমার অবদান, বীমার ঘনত্ব, বীমা বাজারের প্রবণতা, সামষ্টিক অর্থনীতি সূচক ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাপী বীমা বাজারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে সুইস রি’র এই প্রতিবেদনে। বিশ্বের ১৪৭টি দেশের তথ্য পর্যালোচনা করা হলেও প্রতিবেদনটিতে স্থান পেয়েছে ৮৮টি দেশ।
এর মধ্যে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের জিডিপিতে বীমা খাতের বর্তমান অবদান ৪.২ শতাংশ, যা আগের বছরও একই ছিল। তবে পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান কমেছে। ২০২১ সালে পাকিস্তানে বীমার অবদান ০.১ শতাংশ কমে ০.৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ০.২ শতাংশ কমে ৯.৩ শতাংশ, চীনে ০.৬ শতাংশ কমে ৩.৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ০.১ শতাংশ কমে ৫.৩ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ০.৩ শতাংশ কমে ১.৬ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিপাইনের বীমা পেনিট্রেশন ০.২ শতাংশ বেড়ে ২.০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ০.১ শতাংশ বেড়ে ১.৩ শতাংশ, জাপানে ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮.৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডের ০.১ শতাংশ বেড়ে ৫.৪ শতাংশ এবং ম্যাকাওয়ে ১.১ শতাংশ বেড়ে ৭.০ শতাংশ হয়েছে। স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে ভিয়েতনামে, ২.৩ শতাংশ।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জিডিপিতে অবদান রেখেছে পশ্চিম ক্যারিবিয়ান সাগরের স্বায়ত্তশাসিত ব্রিটিশ বিদেশের অঞ্চল কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জের বীমা খাত, ২১.০ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে হংকং, ১৯.৬ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান, ১৪.৮ শতাংশ। তবে বীমা পেনিট্রেশনের এই র্যাংকিংয়ে ৮৮টি দেশের তালিকায় নেই নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমান।
সুইস রি’র ওই প্রতিবেদন অনুসারে, প্রিমিয়াম আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম। মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ১৩.৯ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি ২০২১ সালে র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। গেলো বছর দেশের মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ১ হাজার ৯৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০ সালে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ১ হাজার ৭৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ ছাড়াও ২০২১ সালে বাংলাদেশের লাইফ বীমা খাতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। আলোচ্য বছরে দেশের এই খাতে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৫৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছর ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের মোট বীমা ব্যবসায় এই খাতের অবদান ৭৮.১ শতাংশ।
প্রতিবেদনটিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশের নন-লাইফ বীমা খাতে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দেখানো হয়েছে ৪৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের বছর ২০২০ সালে ছিল ৩৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে হিসাবে গেলো বছর দেশের নন-লাইফ বীমা খাতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ বেড়েছে ১৫.৭ শতাংশ। আর দেশের মোট বীমা ব্যবসায় এই খাতের অবদান ২১.৯ শতাংশ।
বাংলাদেশে বর্তমান বীমার ডেনসিটি তথা মাথাপিছু বীমার ঘনত্বের পরিমাণ ১২ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরে ছিল ৮ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মাথাপিছু বীমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ৪ ডলার। একইসঙ্গে ২০২১ সালে বিশ্ব বাজারে বীমার ডেনসিটি তথা মাথাপিছু বীমার ঘনত্বের র্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এই র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৮৫তম।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
অন্যদিকে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র তথ্য মতে বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি ৮১টি বীমা কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে লাইফ বীমা কোম্পানির সংখ্যা ৩৫টি, যার মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। অন্যদিকে দেশের নন-লাইফ বীমা কেম্পানির সংখ্যা সর্বমোট ৪৬টি, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে একটি।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।