জমা হয়নি প্রিমিয়ামের টাকা

মেঘনা লাইফের মাঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রিমিয়ামের টাকা কোম্পানির তহবিলে জমা হয়নি- ঋণ চাওয়ায় মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন তথ্য জানানো হলে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন গ্রাহক।

গত ৩ আগস্ট পঞ্চগড়ের ৩ নম্বর বিজ্ঞ আমলি আদালতে এ মামলা করেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার উকিল চন্দ্র রায়। সিআর ৪৭০/১৭ (বি) নম্বর এ মামলা করা হয়েছে দ-বিধি ৪২০, ৪০৬ ৫০৬ ও ১০৯ ধারায়।

মামলার আর্জিতে বাদী বীমাকোম্পানিটির চেয়ারম্যান, মূখ্য নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও), প্রধান হিসাব কর্মকর্তা (সিএফও), অন্য ২ কর্মকর্তাসহ ঠাকুরগাঁও সিটি জোন ইনচার্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

কিন্তু আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঠাকুরগাঁও সিটি জোন ইনচার্জ জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। গত ৮ আগস্ট শুনানি শেষে এ আদেশ দেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

বীমা কোম্পানিটিরি চেয়ারম্যানসহ বাকী ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি আদালত ।
পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট জহুরুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে গ্রাহকের পাওনা টাকা পরিশোধের শর্তে জামিন নেন।

মামলার বাদী উকিল চন্দ্র রায় মোবাইল ফোনে জানান, ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ২ লাখ টাকার একটি সিঙ্গেল পলিসি করি। পলিসি নং-বিএ ৪১৮৪৩-৬। পলিসির জন্য মোট প্রিমিয়াম জমা করি ২ লাখ ৪ হাজার ৯ শ ৬০ টাকা। ২৬ জানুয়ারি পলিসির ১২ নম্বর শর্ত অনুসারে ঋণ চেয়ে আবেদন করি।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার প্রিমিয়ামের টাকা কোম্পানিতে জমা হয়নি তাই ঋণ দেয়া যাবে না। অথচ আমাকে বীমার দলিল দেয়া হয়েছে। এতে আমার জমাকৃত টাকা উদ্ধারে আইনের আশ্রয় নিতে গত ২৬ জুন কোম্পানিকে লিগ্যাল নোটিশ করি। কিন্তু তারা কোন জবাব দেয়নি।

এরপর গত ৩ আগস্ট আদালতে মামলা করি। আদালত স্থানীয় ইনচার্জের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এখন আদালত তাকে ১ মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে বলেছেন। আমি এই ১ মাস দেখব টাকা দেয় কি না। না দিলে আমি আইনি লড়াই করে যাব।

মামলার আসামী জহুরল ইসলাম বলেন, গ্রাহক আমার সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

অথচ আদালত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি করেন। কোম্পানির কর্মকর্তারা আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি ইনচার্জের দায়িত্ব নিয়েছি ২০১৫ সালের ১ মার্চ। এর আগেই ওই গ্রাহক পলিসি করেছে। কোম্পানিও গ্রাহককে বীমা দলিল দিয়েছে। বীমা দলিল ইস্যু করে প্রধান কার্যালয়। আমি ব্রাঞ্চ ইনচার্জ। আমার দায়িত্ব অনুসারে আমি প্রিমিয়ামের সকল টাকা কোম্পানির কাছে জমা করেছি। প্রিমিয়ামের টাকা পাওয়ার সাথে সাথে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। আমার কাছে রেকর্ড আছে। উকিল চন্দ্রের টাকাও কোম্পানির একাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রিমিয়ামের টাকা জমা না হলে হেডঅফিস বীমা দলিল দিত না। কোম্পানির একাউন্টে টাকা জমা হয়নি- এ অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহি কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র রুদ্র'র সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় সব সময় সচেতন থাকি। গ্রাহক তার ন্যায্য পাওনা অবশ্যই পাবেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তার অনিয়মের কারণেই মূলত মামলা হয়েছে। তাই আমরা ইতোমধ্যেই ওই কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছি। তার কাছে কোম্পানির পাওনাদি বুঝিয়ে দেয়ার নোটিশ করা হয়েছে। কোম্পানির পাওনাদি পরিশোধ না করলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।