আর্থিক দিক থেকে ভালো নেই সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্থিক দিক বিবেচনায় ভাল নেই বেসরকারি লাইফ বীমা কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। পারিবারিক কোম্পানি হিসেবে খ্যাত লাইফ বীমা খাতের এ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। একদিকে দায় বাড়ছে, অন্যদিকে আয়ের সব সূচক নিম্নমূখি।

প্রথম বর্ষ ও নবায়ন প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ থেকে আয়, রেভেন্যু সারপ্লাস এবং লাইফ ফান্ড সবই কমেছে। বেড়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পলিসির সংখ্যা। বিপরীতে কমেনি ব্যয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র কাছে দাখিল করা কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে এ চিত্র উঠে আসে।

২০১৫ ও ২০১৬ সালের হিসাব থেকে দেখা যায়, কোম্পানিটির প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় কমেছে ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ২৮ শতাংশ, নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ কমেছে ১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ২১ শতাংশ। বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। লাইফ ফাণ্ড কমেছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ বা ১ শতাংশ।

কোম্পানিটির রেভেন্যু সারপ্লাস কমেছে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। একই সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পলিসির বেড়েছে ৫ হাজার ৫৯৬টি বা ১৯ শতাংশ। যুক্ত হয়েছে ৬১২টি মৃত্যুদাবি। এছাড়া ৭৮২টি পলিসি সমর্পন করা হয়েছে ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা কোম্পানিটির হিসাব বিরবরণী থেকে দেখা যায়, কোম্পানি ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়। পরের বছরগুলো ব্যবসার রেখা স্থির রাখতে পারেনি। বরাবর নিচের দিকে নেমে এসেছে। ২০১৫ সালে কিছুটা উর্ধমূখী হলেও পরের বছর নেমে গেছে অনেকটা।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) দাখিল করা প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় করে। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে গত বছর ২২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ২৮ শতাংশ কম প্রিমিয়াম আয় করেছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

একইভাবে নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ও কমেছে। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি নবায়ন প্রিমিয়াম আয় করে ৬৫ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের বছরে যা ছিল ৮২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য বছরে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ কমেছে ১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ২১ শতাংশ। এছাড়া ২০১৫ সালের চেয়ে ২৪ শতাংশ, ৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমে ২০১৬ সালে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১২৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগ ও বিনিয়োগ থেকে আয়ও কমেছে। আলোচ্য বছরে বিনিয়োগ থেকে আয় এসেছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ছিল ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

ওই বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ২০১৬ এই বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কমে দাঁড়ায় ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও বিনিয়োগ আয় থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাদ দিয়ে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের রেভেন্যু সারপ্লাস ৫৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর আগের বছরে যার পরিমাণ ছিল ৭১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত বছরে কোম্পানিটির রেভেন্যু সারপ্লাস কমেছে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

রেভেন্যু সারপ্লাস কমার পাশাপাশি টান পড়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লাইফ ফান্ডে। ২০১৫ সালে লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ছিল ৩৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা কমে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৩৪১ কোটি ১১ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক পলিসি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে, ৩৫ হাজার ৫৮৬টি। এরআগে ২০১৫ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২৯ হাজার ৯৭০টি পলিসি। তবে আগের বছর ২০১৪ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ১৩ হাজার ১৭৫টি পলিসি ।  

২০১৬ সালেও কোম্পানিটি নিয়ম বহির্ভূত অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের বছরে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা।

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান প্রফেসর রুবিনা হামিদ ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'কে বলেন, গত বছর পুরো সেক্টরেই একটা খারাপ অবস্থা গেছে। এখন ক্লেইম পেমেন্ট বাড়ছে। তাছাড়া অদক্ষতার কারণে আগের ম্যানেজমেন্ট সেভাবে ব্যবসা করতে পারেনি। এজন্য আমরা এখন ম্যানেজমেন্টে বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছি। 

ক্লেইম পেমেন্ট ঠিক মতো না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না এমন প্রশ্নে রুবিনা হামিদ বলেন, আমরা কিন্তু ক্লেইম পরিশোধ করে যাচ্ছি। গত বছরও আমরা অনেক টাকার ক্লেইম পরিশোধ করেছি। এবছরও এ পর্যন্ত অনেক পেমেন্ট হয়ে গেছে। ক্লেইম পেমেন্ট কম হচ্ছে, এরকম না।