ফেসবুকে সক্রিয় বীমা পেশাজীবীরা, ২ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
আবদুর রহমান:
ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বীমা পেশাজীবীরা। নিজের অধিকার, বীমাখাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে চলছে তাদের আলোচনা। সমালোচনা করছেন নানান বিষয়ে। নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাও করছেন তারা। এরইমধ্যে ফেসবুকে আলোচনা থেকে দু'টি সংগঠন গড়ে তুলতে অনেক দূর এগিয়েছেন বীমা পেশাজীবীরা। ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (আইডিএবি) এবং বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সোসাইটি নামে দু'টি ফেসবুক পেজে চলছে তাদের কর্মকাণ্ড।
জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে বেশিরভাগ লাইফ বীমা কোম্পানি গণহারে কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করছে। বন্ধ করে দিচ্ছে অফিস। একারণে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত বীমা পেশাজীবী। তাছাড়া কর্মীদের ওপর নানান রকম অবৈধ শর্তারোপ করছে বীমা কোম্পানিগুলো। এতে বিপাকে পড়ছেন বীমা পেশাজীবীরা।
চলতি বছরের মাঝামাঝি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দেশজুড়ে কর্মরত কোম্পানিটির ১ হাজার ২৬৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারির মধ্যে ২৬৫ জনকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেয় পদ্মা ইসলামী লাইফ কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় না করলে এজেন্টরা তাদের সংগ্রহ করা নবায়ন প্রিমিয়ামের উপর কোনো কমিশন পাবেন না এমন শর্তারোপ করে অবৈধ প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের বৃহৎ লাইফ বীমা কোম্পানি হিসেবে খ্যাত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এতে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত এজেন্টরা।
এসব খবরে ফেসবুকে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠেন বীমা পেশাজীবীরা। সমালোচনা করেন নানান বিষয় নিয়ে। তবে তাদের বেশিরভাগ অভিযোগের তীর বীমা কোম্পানির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের দিকে। তাদের অভিযোগ, বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করছে না। ফলে তারা গ্রাহকের দ্বারা হুমকি-ধামকির শিকার হচ্ছেন। অনদিকে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে নতুন ব্যবসা সংগ্রহের চাপ দিচ্ছেন কর্মীদের ওপর।
চাকরি হারানোর ভয়ে এসব ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে না পারলেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ফেসবুকে। চেষ্টা করেন নিজেদেরকে সংগঠিত করার। এরই ধারাবাহিকতায় তারা দু'টি সংগঠনের নামে নিজস্ব ফেসবুক পেজ খুলে বীমা পেশাজীবীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন।
বীমা কর্মীদের নিয়ে সংগঠন গড়তে সম্প্রতি একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (আইডিএবি) । চলতি মাসেই তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে। এরপর বিভাগ ও জেলা ভিত্তিক কমিটি ঘোষণা করবে আইডিএবি। বীমাখাতের উন্নয়ন, গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা ও নিজেদের অধিকার আদায় সংগঠনের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছে জাতীয় বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সোসাইটি। আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম এই সংগঠনের সভাপতি। বর্তমানে সারাদেশে জেলা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, "এই সোসাইটি বীমা শিল্পের কর্মী কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলের বিপদে আপদে ও সকল কিছুর কল্যাণে আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান, এটি আমার, আপনার, আমাদের"।
ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ এর প্রধান সমন্বয়ক জিএম সজল ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'কে জানান, চলতি মাসেই সংগঠনের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর দেশের ৬৪টি জেলায় ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয়া হবে। পাশাপাশি ৮টি বিভাগের জন্যও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ৮টি বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ১৫ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।
জিএম সজল বলেন, এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা কোন পদে থাকছেন সে বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৫টি জেলা কমিটির রূপরেখাও দাঁড় করানো হয়েছে। আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রীয় কমিটির জন্য কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলায় স্থানীয় বীমা কর্মীদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলোচনা ও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে বলে জানান আইডিএবি'র আহবায়ক সজল।