ফসলের বীমায় ১৩৭৩ কৃষকের ৩৩ লাখ টাকা দাবি পরিশোধ

আবদুর রহমান:

আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমার আওতায় দেশের ৩টি জেলার ১ হাজার ৩৭৩ জন কৃষকের বীমা দাবি বাবদ ৩২ লাখ ৮৩ হাজার ১শ' টাকা পরিশোধ করেছে সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি) । এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)'র অনুদানে চালু করা এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পরিচালক ওয়াসিফুল হক।

সাধারণ বীমা করপোরেশনের এই ডিজিএম জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় এবার ব্যাপকভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের আগের ৩টি পাইলটিংয়ের চেয়ে এবার বেশি বীমা দাবি উত্থাপিত হয়েছে। আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে এই শস্য বীমা পরিচালিত ও দাবি পরিশোধ করা হয় বলে জানান ওয়াসিফুল হক।

এসবিসি'র সিরাজগঞ্জ শাখার এসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো. জহুরুল ইসলাম জানান, চতুর্থ পাইলটিংয়ের আওতায় জেলার ৫শ' বিঘা জমির অনুকূলে ৫শ'টি আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমা পলিসি ইস্যু করা হয়েছিল। এজন্য বিঘা প্রতি প্রিমিয়াম ধরা হয়েছিল ভ্যাটসহ ৫৭৫ টাকা। তবে কৃষককে দিতে হয়েছে ২৫০ টাকা। বাকী ৩২৫ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।

এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় এবার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জ এলাকার ফসল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) হিসাব অনুসারে তাই সবগুলো বীমা পলিসির বিপরীতে দাবি উত্থাপন হয়েছে। এসব বীমা দাবি বাবদ ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৫শ' টাকার দাবি পরিশোধ করেছে সাধারণ বীমা করপোরেশন।

জহুরুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে রায়গঞ্জে। এ কারণে এই এলাকার বীমা গ্রাহক কৃষকরা বিঘা প্রতি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৮ হাজার টাকা। আর তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার শাহজাদপুর অঞ্চলের ফসল। এই এলাকার বীমা গ্রাহক কৃষকরা বিঘা প্রতি ৫শ' টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী শাখা এসবিসি'র ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে আমন ধানের জন্য ৪৭৩টি আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমা পলিসি ইস্যু করা হয়েছিল। কৃষকের কাছ থেকে বিঘা প্রতি প্রিমিয়াম নেয়া হয় ২৫০ টাকা। ৫৭৫ টাকা নির্ধারিত প্রিমিয়ামের বাকী অর্থ পরিশোধ করে সরকার।

মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইস্যুকৃত এসব পলিসির মধ্যে ৩৩০টির দাবি উত্থাপিত হয়। প্রতিটি বীমার দাবির জন্য বিঘা প্রতি কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৩৩০ জন বীমা গ্রাহক কৃষককে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫শ' টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এছাড়া নোয়াখালী জেলায় ৪২৬ বিঘা জমির অনুকূলে ৪০০টি আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমা পলিসি ইস্যু করা হয়েছিল। ইস্যুকৃত এসব পলিসির বিপরীতে উত্থাপিত বীমা দাবি বাবদ কৃষককে ৩ লাখ ৭০ হাজার ১শ' টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষক বিঘা প্রতি প্রিমিয়াম দিয়েছে ৩শ' টাকা এবং সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ৩৯০ টাকা, জানান প্রকল্প কর্মকর্তারা।

এসবিসি সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হ্রাসে ২০১৩ সালে আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমা চালু করা হয়। খরাপ্রবণ অঞ্চল রাজশাহী, বন্যাপ্রবণ অঞ্চল সিরাজগঞ্জ ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চল নোয়াখালীকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

পরীক্ষামূলক এই শস্য বীমা প্রকল্প ৫টি ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ৪টি ধাপে প্রকল্প এলাকার ৭ হাজার ৯৬ জন কৃষকের অনুকূলে বীমা পলিসি ইস্যু ও দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫ম পাইলটিংয়ের মাধ্যমে রাজশাহী জেলায় আমন ধানের অনুকূলে আবহাওয়া সূচক ভিত্তিক শস্য বীমার ৩৫০টি পলিসি ইস্যুর কার্যক্রম চলছে।

প্রথম ৩টি পাইলটিংয়ের আওতায় আমন ধান ও আলু ফসলের অনুকূলে ৫ হাজার ৩৯৯টি বীমাপত্র ইস্যু করা হয়। এসব পলিসির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৪ টাকা বীমা দাবি উত্থাপন করে। সরকারী নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এসব দাবি পরিশোধ করা হয়।