‌‘অবৈধ ব্যয়’ অভিযোগ কাটাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবস্থাপনার নামে ‌‘অবৈধ ব্যয়’ অভিযোগ থেকে বেড়িয়ে আসতে ব্যয় না কমিয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যয় সীমা বাড়িয়ে প্রবিধানমালা জারি করানোর চেষ্টা চলছে। বীমাখাত সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

তবে বীমা বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যয় বাড়ানো নয়, প্রয়োজন প্রিমিয়াম আয় বাড়ানো। ব্যয় সীমা বাড়িয়ে দিলেই অবৈধ ব্যয় কমবে না বরং বাড়বে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রথম বর্ষ প্রিমিয়ামের ৯৮% এবং নবায়নের ২৫% খরচ করার সীমা দেখিয়ে প্রবিধানের খসড়া প্রস্তাব করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । এ বিষয়ে মতামত চেয়ে খসড়া প্রবিধানটি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট-এ দেয়া রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১২ সাল থেকেই ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে আনতে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোকে তাগিদ দিয়ে আসছে আইডিআরএ । কোম্পানিগুলোর পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ধরণের অতিরিক্ত ব্যয়কে ‌‌ ‌‘আইনগত নয়’ এবং ‘বেআইনি’ বলেও আখ্যায়িত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এরপরও অবৈধ ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি কোম্পানিগুলো।

এ অবস্থায় ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট ৬টি বীমা কোম্পানির ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের আয়-ব্যয়ের ওপর অডিট শুরু করে আইডিআরএ। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলো বীমা কোম্পানিগুলোর ৩ বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এসব প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা বীমা কোম্পানিগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ২০১৬ তারিখে বীমাখাতের একমাত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'তে ‘গ্রাহকদের ১৭৮১ কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছে ১৭ লাইফ বীমা কোম্পানি' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোম্পানিগুলোর বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি নিয়ে দুদক এখনো কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অবৈধ ব্যয়ের এই অভিযোগ থেকে বের হতে ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো। ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের খসড়া প্রবিধানে আগের চেয়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে, কোম্পানিগুলো প্রথম বছরে গ্রাহকের জমা করা প্রিমিয়ামের ৯৮ শতাংশই খরচ করতে চায়। আর পরের বছরগুলোতে তারা খরচ করতে চায় ২৫ শতাংশ।

বীমা কোম্পানিগুলোর মূখ্য নির্বাহীরা বলছেন, বাস্তবতা হচ্ছে ১৯৫৮ এর রুলস অনুযায়ী যে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা ছিল, সেটার মধ্যে আসলে অপারেশন করতে পারছিল না কোম্পানিগুলো। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া বেশিরভাগই কমপ্লাই করতে পারছে না। ব্যয়ের সীমা মানে এই না যে পুরোটা খরচা করে ফেলা হবে। অনেকেই মনে করছে যে ৯৮% পাওয়া মানেই ৯৮% খরচা করে ফেলবো বা ২৫% পেয়েছি বলেই ২৫% খরচ করে ফেলবো বিষয়টা এমন নয়। খরচা করতে হবে কোম্পানির আর্থিক সঙ্গতি অনুসারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ব্যয়সীমা কম দেয়া থাকতেই বেশি খরচ করে ফেলেছে অধিকাংশ কোম্পানি। ব্যয়সীমা আরো বাড়িয়ে দিলে তা মেনে খরচ করবে এর নিশ্চয়তা কী?