ছুটির দিনেও অফিস খোলা রাখে সিকদার ইন্স্যুরেন্স
আবদুর রহমান:
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ছুটির দিনেও যথারীতি অফিস করছে বেসরকারি নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান সিকদার ইন্স্যুরেন্স। তবে এজন্য অতিরিক্ত কোন ভাতা দেয়া হয় না। কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় ও একটি শাখা কার্যালয় ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বীমা কোম্পানির অফিস সময় নির্ধারণ করে ২০১২ সালের ৩০ অক্টোবর জারি করা আইডিআরএ'র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘৩০ অক্টোবর রবিবার থেকে দেশের সকল বীমা প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। কোনো কোম্পানি এ নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল শনিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টায় রাজধানী মতিঝিলে লাল ভবনের ৮ম তলায় গিয়ে দেখা যায় সিকদার ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তারা অফিস করছেন। সেখানে কথা হয় কোম্পানির একজন জুনিয়র অফিসারের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই অফিসার জানান, অফিস খোলা কিন্তু কার্যক্রম চলছে না।
তাহলে ছুটির দিনে কি করছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরা মাসে যেসব কাজ করা হয়েছে সেই ডকুমেন্টস হেড অফিসে পাঠাতে হবে। সেই কাজই চলছে।
ছুটির দিনে কাজের জন্য অতিরিক্তি বেতন দেয়া হয় কিনা- জানতে চাইলে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের এই কর্মকর্তা বলেন, মাসিক বেতনই সব। অন্যান্য কোম্পানির অফিস বন্ধ থাকলেও শনিবার তাদের অফিস করতে হয়। মালিকপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে তাদেরকে এদিন অফিস করতে হয়।
দিলকুশা ব্রাঞ্চের ইনচার্জ মো. জসিমও অফিস করছেন, তবে ওই মুহুর্তে তিনি বাইরে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এরপর বেলা আড়াইটায় রায়েরবাজারস্থ সিকদার ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েও দেখায় যায় কর্মব্যস্ততা। সেখানে কোম্পানিটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর অ্যান্ড সিইও (সিসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ'র সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
তিনি বলেন, কোম্পানির কিছু কার্যক্রম থাকে যা শনিবার করা হয়ে থাকে। তবে এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত কোন বেতন-ভাতা প্রদান করা হয় না।
আহসান উল্লাহ বলেন, কাজ থাকলে তো অফিস করতেই হবে। তবে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকার বিষয়ে আইডিআরএ'র একটা নির্দেশনা আছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবসায়িক কাজ থাকে না। কিন্তু অফিসের আভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলে। আমাদের কাজ আমরা করি, এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাইবা কি করবে? কাজ তো আর আটকে রাখা যাবে না।