সক্রিয় হচ্ছে আইডিআরএ, শিগগিরই মাঠে নামছে পরিদর্শক দল
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । বীমা কোম্পানিরগুলোর অনিয়ম দুর্নীতি দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই মাঠে নামছে আইডিআরএ'র পরিদর্শক দল। ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'র সাথে আলাপকালে এমন তথ্যই জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাস।
সূত্র মতে, আইডিআরএ সর্বশেষ পরিদর্শক দল গঠন করে ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। এ সময় ৪ সদস্য বিশিষ্ট দু'টি দল গঠন করা হয়। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে দুই সদস্য বিশিষ্ট ৫টি টিম গঠন করেছিল আইডিআরএ। আইডিআরএ গঠনের পর ২০১১ সালে প্রথম পরিদর্শক দল গঠন করে সংস্থাটি। এ সময়ে ৬টি পরিদর্শক দল গঠন করা হয়।
এসব পরিদর্শক দল নন-লাইফ বীমা কোম্পানির বাকিতে পলিসি করানো ও অবৈধ কমিশন বন্ধে গুরুত্ব দেয়। এ সময়ে পরিদর্শক দলের প্রতিবেদন অনুসারে বাকিতে পলিসি করানোর কারণে অধিকাংশ কোম্পানিকে জরিমানা করাসহ কয়েকটি ব্রাঞ্চও বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে নন-লাইফ বীমাখাতে বাকিতে পলিসি করানো প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। তবে জনবল সংকট আইডিআরএ কোরাম সংকটের কারণে পরিদর্শক দলের কার্যক্রম গত প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
আইডিআরএ সদস্য গকুল চাঁদ দাস জানান, ব্যাংকের আদলে একটি পরিদর্শন ম্যানুয়াল তৈরি কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। এ মাসেই এ ম্যানুয়াল চূড়ান্ত হবে। এরপরেই পরিদর্শক দল মাঠে নামবে।
পরিদর্শনের ম্যানুয়াল অনুসারে কোম্পানির ব্যবসা, প্রিমিয়াম আদায়, গ্রাহক সংখ্যা, পলিসি তামাদির হার, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত বীমা দাবির পরিমাণ, কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারির সংখ্যা, এমডিদের বেতন ভাতাসহ যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম তদারকির আওতায় আসবে।
আমরা উন্নয়নের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করব। কোম্পানিগুলোকে সংশোধনের পরামর্শ দেয়া হবে। এরপরও সংশোধন না হলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হবো, যুক্ত করেন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য গকুল চাঁদ দাস।
এদিকে আইডিআরএ'র তদারকি না থাকায় নন-লাইফ বীমাখাতে অনিয়ম দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছ। আবারো শুরু হয়েছে বাকিতে পলিসি করানো ও অবৈধভাবে কমিশন দেয়া। অধিকাংশ কোম্পানি এখন বাকিতে পলিসি করছে। কমিশন দিচ্ছে ৭০ শতাংশের ওপরে। দুই একটি কোম্পানি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বীমাখাতে।
নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নন-লাইফ বীমাখাতে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার কারণে প্রিমিয়াম সংগ্রহে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। আইডিআরএ প্রজ্ঞাপন অনুসারে নন-লাইফ বীমাখাতে ১৫% কমিশন নির্ধারণ করা থাকলেও কোম্পানিগুলোকে কমিশন দিতে হচ্ছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। কমিশনের এ টাকার বেশিরভাগই যাচ্ছে গ্রাহকদের পকেটে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেকে বাধ্য হচ্ছেন অবৈধভাবে কমিশন দিতে।