বীমার উন্নয়নের মধ্য দিয়েই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে
যশোর থেকে মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু: বীমা ছাড়া কোনো দেশই আর্থিকভাবে সাবলম্বি হতে পারে না। শুধু জীবন যাত্রার মানের উন্নয়ন হলেই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে না। যতক্ষণ না এ দেশে বীমা সুবিধার আওতা বৃদ্ধি না পাবে। তাই দেশের সাধারণ মানুষকে বীমার আওতায় আনতে বীমার উন্নয়ন করতে হবে।
আজ বিকালে যশোরে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ হাজার ৩৭৪ গ্রাহকের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সদস্য গকুল চাঁদ দাস।
তিনি বলেন, যে কোনো ঝুঁকির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বীমা। শত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেও মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। যে কোনো মানুষ যে কোনো মুহুর্তে মারা যেতে পারে বা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বীমা এ আর্থিক ক্ষতির দায়িত্ব নেয়। অথবা মেয়াদ শেষ হলে গ্রাহককে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে। আর সম্পদের ঝুঁকি নেয় নন-লাইফ বীমা। তাই বীমা এটা পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত।
নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এই সদস্য বলেন, যেসব কোম্পানি বীমা দাবি পরিশোধ করে না, সেসব কোম্পানিতে বীমা করার প্রয়োজন নেই। যে সব কোম্পানি বীমা দাবি পরিশোধ করে আপনারা সেসব কোম্পানিতে বীমা করবেন।
বীমার এজেন্টদের উদ্যেশ্য তিনি বলেন, আপনার পলিসিতে যেসব শর্ত থাকে তা সঠিকভাবে গ্রাহকদের কাছে উপস্থাপন করবেন। কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করবেন না। এতে গ্রাহক যেমন সস্তিতে থাকবে তেমনি আপনিও স্বচ্ছ থাকবেন।
গকুল চাঁদ দাস বলেন, প্রতিটি কোম্পানিরই উচিত এ ধরণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বীমা দাবি পরিশোধ করার আয়োজন করা। এতে একদিকে বীমা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন হবে অন্যদিকে বীমার প্রসার ঘটবে।
তিনি বলেন, বীমা নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এসব ধারণা দূর করতে পলিসি ফরমসহ অন্যান্য সকল শর্ত বাংলায় প্রকাশের আহবান জানান।
যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খলিল আহমদ এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বি এম ইউসুফ আলী। কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে ৩ হাজার ৩৭৪ জন বীমা গ্রাহকের মাঝে ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়। এসময় সমাবেশে বীমা গ্রাহক, বীমা কর্মী ও কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।