প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইডিআরএ'কে ভুল তথ্য দিচ্ছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ
আবদুর রহমান: প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পলিসি বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে আসছে বেসরকারি লাইফ বীমা কোম্পানি ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। তবে এ বিষয়ে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ।
আইডিআরএ'র কাছে দাখিল করা ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ব্যবসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে বিষয়টি এভাবে বুঝতে পারেনি বলে দাবি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের।
আইডিআরএ দাখিল করা ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোম্পানিটি সর্বমোট নতুন পলিসি ইস্যু করে ২৬ হাজার ২৯২টি। এরমধ্যে গ্রাহকের মৃত্যুজনিত বীমা দাবি উঠেছে ২৫টি এবং সমর্পন করা হয়েছে ৫টি পলিসি। এছাড়া ১১ হাজার ১০৫টি পলিসি তামাদি হয়েছে। সে হিসাবে ট্রাস্ট লাইফে সচল পলিসির সংখ্যা ১৫ হাজার ১৫৭টি।
আইডিআরএ দাখিল করা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সচল পলিসির সংখ্যা দেখিয়েছে ৯ হাজার ৪৭০টি। অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৮৭টি পলিসির কোন হিসাব পাওয়া যায় না।
ইন্স্যুরেন্সনিউজিবিডি'র পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ নতুন একটি হিসাব প্রদান করে। এতে দেখা গেছে, কোম্পানিটির সর্বমোট তামাদি পলিসির সংখ্যা ১৭ হাজার ১০৪টি। এরমধ্যে ২০১৪ সালে ১২১টি, ২০১৫ সালে ৯ হাজার ৯৫৮টি এবং ২০১৬ সালে ৭ হাজার ২৫টি। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা তথ্যে দেখানো হয়েছে- ২০১৪ সালে তামাদি পলিসির সংখ্যা ১২১টি, ২০১৫ সালে ৪ হাজার ৯৫৮টি এবং ২০১৬ সালে ৬ হাজার ২৬টি।
নতুন হিসাব অনুসারে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ইস্যুকৃত পলিসির ৬৫.০৫ শতাংশই তামাদি হয়েছে। অর্থাৎ ৩৪.৯৫ শতাংশ পলিসি নবায়ন হয়েছে। কিন্তু কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যে প্রতিবেদন দাখিল করে আসছে তাতে তামাদি পলিসির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪২.২৩ শতাংশ এবং নবায়নকৃত পলিসির পরিমাণ ৫৭.৭৭ শতাংশ। এই হিসাবে তামাদি পলিসির পরিমাণ ২২.৮২ শতাংশ কম এবং নবায়নকৃত পলিসির পরিমাণ ২২.৮২ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইডিআরএ অসম্পূর্ণ এবং ভুল তথ্য প্রদান করে আসছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বীমা আইন ২০১০ এর ধারা ১৩১ অনুসারে, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করলে বা মিথ্য কোন দলিল, বিবরণী, হিসাব, রিটার্ন বা প্রতিবেদন দাখিল করলে অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এসব বিষয়ে কথা হয় ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের এএমডি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে। বিষয়টি বুঝতে পারেননি স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রতিবছর একইভাবে আইডিআরএ হিসাব দাখিল করে আসছি। এখন পর্যন্ত তারা বিষয়টি নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেনি। একটা দৃষ্টিকোন থেকে আমরা এভাবে হিসাব দিয়ে এসেছি। আইডিআরএ আমরা বিষয়টি জানাবো। তবে আগামী বছর থেকে সঠিকভাবে হিসাব দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।