১৫৫ মৃত শ্রমিকের দাবি পরিশোধে তালবাহানা

পদ্মা ইসলামী লাইফের ১১ তথ্য চেয়েছে আইডিআরএ

আবদুর রহমান: নিট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ'র ১৫৫ শ্রমিকের মৃত্যুদাবি পরিশোধ না করার বিষয় খতিয়ে দেখতে ১১টি তথ্য চেয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে চিঠি দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । ১৫ নভেম্বর কোম্পানিটির কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়।জবাব দিতে সময় দেয়া হয়েছে ৭ কার্যদিবস।

এরআগে গত ১৮ জুলাই ১৫৫ শ্রমিকের মৃত্যুদাবির টাকা পরিশোধ না করায় পদ্মা ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে আইডিআরএ’র কাছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ নিটওয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ।

এর প্রেক্ষিতে ২৪ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় আইডিআরএ। চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু ৬ অক্টোবর এ চিঠির জবাব দিতে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আইডিআরএ তা মঞ্জুরও করে। তবে চেয়ে নেয়া সময়ের মধ্যেও জবাব দেয়নি বীমা কোম্পানিটি। এরপরই ১১টি তথ্য চেয়ে বীমা কোম্পানিটির কাছে এ চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

পদ্মা ইসলামী লাইফকে যেসব তথ্য দিতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো- বিএকএমইএ এর সাথে গ্রুপ চুক্তিনামা ও বীমাকৃত কর্মকর্তা/ কর্মচারির তালিকাসহ বিস্তারিত বিবরণ; বিকেএমইএ কর্তৃক প্রদত্ত বীমা দাবির দালিলাদিসহ তালিকা এবং বীমাকৃত টাকার পরিমাণ; বীমা দাবির নিষ্পত্তির বর্তমান হালনাগাদ অবস্থা; বীমা দাবি অনিষ্পন্ন থাকলে তার যথাযথ কারণ।

এছাড়াও, বীমা দাবি দীর্ঘদিন যাবত পরিশোধ না করার কারণ; বীমা দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে বিকেএমইএ এর সাথে কোন সমঝোতা হলে তার তথ্যাদিসহ প্রমাণ; গ্রুপ বীমা চুক্তি সম্পাদন করার পর বিগত যে সকল বছরে বীমা ঝুঁকির আবরণ সচল ছিল সে সকল বছরের গৃহীত মোট প্রিমিয়ামের পরিমাণ; উক্ত প্রিমিয়ামের বিনিয়োগকৃত আয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এ পলিসির বিপরীতে পুনর্বীমা করলে তার বিস্তারিত বিবরণসহ তথ্যাদি; কোম্পানির বর্তমান নগদ প্রবাহ (Cash Flow) এবং তহবিল প্রবাহ (Fund flow) এর বিবরণ; উক্ত গ্রুপ বীমা ব্যবসা আহরণে কোন কমিশন প্রদান করে থাকলে এজেন্টের নাম, লাইসেন্স, কমিশনের বিল ভাউচার এর কপিও চেয়েছে আইডিআরএ।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, বিকেএমইএ'র সদস্যভুক্ত কারখানার ১৫৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুদাবি পরিশোধ না করার বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বীমাখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দাবি পরিশোধের নির্দেশের পাশাপাশি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।