বীমাখাতকে আমরা অত্যন্ত অবহেলা করেছি: অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বীমাখাতকে আমরা অত্যন্ত অবহেলা করেছি। যার কারণে বীমাখাত এখনো পিছিয়ে আছে। দেশের অর্থনীতিতে বীমাখাতের অবদান দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ ভারতের অর্থনীতিতে বীমাখাতের অবদান ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, আমাদের দেশেও ৪ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।
"প্রোটেক্টিং দ্যা পুওর: ইমার্জিং মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স মার্কেট ইন সাউথ এশিয়া" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) আজ সোমবার ঢাকা ক্লাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
আগুন, ভূমিকম্পসহ অনেক ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বীমাখাতে নজর দেয়া উচিত। বীমার বিকাশে আমাদের অবদান রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে বীমা ব্যবসা হচ্ছে কিন্তু বিকাশ হয়নি। প্রোডাকশন ও সেবার মান আরো ভালো করতে হবে।
বীমাখাতের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বহু পুরনো একটি ইন্স্যুরেন্স একাডেমি আছে। বড় বড় অফিস আছে। কিন্তু কাজ নেই। তিনি বলেন, এটা হওয়া উচিত নয়। ইন্স্যুরেন্স একাডেমিকে জীবন দান করতে হবে। এটি এখন মৃত। এ জন্য তিনি বীমাখাত থেকে পরামর্শ আহবান করেন।
বীমা কোম্পানির মালিকদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে ইন্স্যুরেন্স একাডেমিকে সক্রিয় করা। তিনি বলেন, বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি সহনীয় করার চেষ্টা করা হবে। ব্যাংকাস্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হবে এবং এনজিও'গুলোর বীমা ব্যবসা নীতিমালার আওতায় আনা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
বিআইএ'র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্স্যুরেন্স ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া এর সেক্রেটারি জেনারেল পি ভেনুগোপাল । এছাড়া আইডিআরএ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সেক্রেটারি মো. ইউনুসুর রহমান, বিআইএ'র ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর রুবিনা হামিদ এবং সেমিনার কমিটির আহবায়ক কে এম মোরতুজা আলী বক্তব্য রাখেন।