বীমাখাত নিয়ে ১ম গবেষণা

বীমার উন্নয়ন হলে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি হবে ৯%

আবদুর রহমান: বীমাখাতে অন্তর্ভুক্তি বা পেনিট্রেশন ১ শতাংশ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি বর্তমান ৭ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এমনটাই বলা হয়েছে দেশের বীমাখাত নিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালিত একটি গবেষণায়।

"বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বীমাখাত" শীর্ষক এ গবেষণা করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ বা আইডিআরএ'র নির্বাহী পরিচালক (যুগ্মসচিব) খলিল আহমদ। সিলেটে অনুষ্ঠিত বীমা মেলা ২০১৭ উপলক্ষে প্রকাশিত সুভ্যেনিয়রে গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকারি-বেসরকারি ৭৮টি বীমা প্রতিষ্ঠানের ২০০৯-২০১৬ সালের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়।

সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে করা এ গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের বীমাখাত নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই এবং এই খাতের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ, বিনিয়োগ থেকে আয় এবং মুনাফা অর্জন সন্তোষজনক। সলভেন্সি মার্জিন সংক্রান্ত আধুনিক বিধি-বিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারলে বীমাকারী ও গ্রাহক উভয়ই লাভবান হবে।

অধিকাংশ কোম্পানি অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অধিক ব্যয় করেছে এবং ১০০ শতাংশ বীমা দাবি পরিশোধ করেনি। তবে বেশিরাগ কোম্পানির দাবি পরিশোধের পরিমাণ ৮০ শতাংশের ওপরে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে গবেষণার উপসংহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকাস্যুরেন্স প্রবর্তন, বীমা দাবি পরিশোধ পদ্ধতিতে বিধিগত সংস্কার, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানো, একচ্যুয়ারির সংখ্যা বৃদ্ধি, মটর বীমা বাধ্যতামূলক করা, ট্রেন ও বাস যাত্রীর বীমা ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং সর্বোপরি লাভজনক দীর্ঘ মেয়াদী লাইফ বীমা, ক্ষুদ্রবীমা এবং পেনশন বীমাসহ আধুনিক কিছু বীমার প্রডাক্ট প্রচলন করতে পারলে জিডিপিতে বীমার অবদান উন্নত দেশের মতই হতে বাধ্য।

বীমাখাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতে পরিচালিত "বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বীমাখাত" শীর্ষক এ গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে গেছে বিধায় আগামী ১৫ বছরে ১০০টি ইপিজেড ও এসইজেড স্থাপন করতে পারলে বীমার চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ খাতের সার্বিক উন্নতি অবধারিত।