বীমাখাতের উন্নয়নে ২৭ সুপারিশ

আবদুর রহমান: বিদ্যমান বিধানসমূহ সংস্কার, সলভেন্সি মার্জিন প্রণয়ন, ব্যাংকাস্যুরেন্স প্রবর্তন, সম্পূর্ণ খাতকে অটোমেশনের আওতায় আনাসহ বীমাখাতের উন্নয়নে ২৭টি সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের বীমাখাত নিয়ে প্রথমবারের মতো পরিচালিত "বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বীমাখাত" শীর্ষক গবেষণায় এসব সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা আইডিআরএ'র নির্বাহী পরিচালক (যুগ্মসচিব) খলিল আহমদ।

গত ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত বীমা মেলা ২০১৭ উপলক্ষে প্রকাশিত সুভ্যেনিয়রে গবেষণাটি তুলে ধরা হয়। সরকারি-বেসরকারি ৭৮টি বীমা প্রতিষ্ঠানের ২০০৯-২০১৬ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ গবেষণা করা হয়। বীমাখাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতে পরিচালিত এ গবেষণায় সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং শতকরা হিসাবের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর কর্মক্ষমতার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

দেশের বীমাখাতের উন্নয়নে গবেষণাটিতে যে ২৭টি সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো- অনতি বিলম্বে বীমা সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানসমূহ সংস্কার করা; সলভেন্সি মার্জিন সংক্রান্ত বিধি বিধান প্রণয়ন করা; ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবস্থা প্রণয়ন করা; পলিসি ল্যাপসের হার কামানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা; ই-ইন্স্যুরেন্স চালুকরণ; কেওয়াইসি (নো ইওর কাস্টমার) সংরক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল বীমা কোম্পানির সৃজন করা;

বীমার সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোম্পানি গঠন করা; যোগ্য বীমা গ্রাহক বাছাই করা; বীমা একাডেমিকে শক্তিশালীকরণ; বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জন্য স্থায়ী জনবল তৈরি করা; করপোরেট গভর্ন্যান্স বাস্তবায়ন; কোম্পানির অভিন্ন সাংগঠনিক কাঠামো ও অভিন্ন চাকরি বিধি প্রণয়ন; নিয়মিত অন-সাইট ও অফ-সাইট পরিদর্শন করা; বীমাখাতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

এ ছাড়াও ইন্স্যুরেন্স কোর প্রিন্সিপলসগুলো অনুসরণ করা; সম্পূর্ণ খাতকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা; এজেন্টদের কমিশন প্রদান ও কমিশন গ্রহণের বিষয়টি মনিটর করা। এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য আচরণ বিধিমালা প্রচলন করা; পলিসি হস্তান্তর (টিপি) বন্ধ করা; মটর ইন্স্যুরেন্স বিশেষ করে অন্তত থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা; একটি আধুনিক বীমা তথ্য ভাণ্ডার প্রণয়ন করা;

শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল ব্যবহারের পরিবর্তে বীমা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা; এনজিওসমূহকে বীমা কোম্পানির সাথে এমওইউ এর মাধ্যমে বীমা করতে উদ্বুদ্ধ করা; রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষকদের ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কৃষি, পশু, মৎস্য বীমার প্রচারণা করা; অন্যান্য উন্নত দেশের মতো স্বাস্থ্য বীমা চালুকরণ; পোস্ট অফিসের বীমা সংক্রান্ত কাজের মনিটর করা; কর্মকর্তাদের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং কমিশন প্রদানের স্তর কমানো।