বিভিন্ন শাখা কর্মকর্তা জানান

মার্চ নয়, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেছনের তারিখে পলিসি করবে ফারইষ্ট

বিশেষ প্রতিনিধি: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র কাছে জমা দেয়া ২০১৭ সালের হিসাবে দেখানো অর্জিত প্রিমিয়াম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় আগামী ১১ মার্চ নয়, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেছনের তারিখ দেখিয়ে পলিসি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এমন তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানিটির বিভিন্ন শাখা অফিস কর্মকর্তারা।

ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'তে প্রকাশিত "আইডিআরএ দেয়া হিসাব পূরণ হয়নি: ১১ মার্চ পর্যন্ত পেছনের তারিখে পলিসি করবে ফারইষ্ট; ঝুঁকিতে বীমা গ্রাহক" শিরোনামের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তারা এ তথ্য জানান। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'তে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

 ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ এর বিভিন্ন শাখা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, আইডিআরএ'র কাছে জমা দেয়া ২০১৭ সালের হিসাবে দেখানো অর্জিত প্রিমিয়াম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেছনের তারিখ দেখিয়ে পলিসি বিক্রি করার কার্যক্রম চালানো হবে।

১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিক্রি করা পলিসিতে পলিসি প্রস্তাব, প্রথম প্রিমিয়াম জমা এমনকি ঝুঁকি গ্রহণের তারিখ দেখানো হবে গত বছরের ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর। এ কৌশলে পলিসি বিক্রি করতে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে মৌখিকভাবে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

আইডিআরএ’র কাছে দাখিল করা ২০১৭ সালের হিসাবে প্রথম বর্ষ ও নবায়ন প্রিমিয়াম আয় ১ হাজার ১২ কোটি টাকা দেখিয়েছে ফারইষ্ট লাইফ। এর মধ্যে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৩৭৬ কোটি টাকা ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৬৩৬ কোটি টাকা। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের শাখা অফিসের মাধ্যমে কোম্পানিটির একক বীমায় প্রথম বর্ষ ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয় ৭শ' ২০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম ২৫৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং নবায়ন ৪৬১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সার্বজনিন বীমায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত প্রিমিয়াম সংগ্রহ ১৮০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম বর্ষে ৮৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা, নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৯৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আইডিআরএ দাখিল করা প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবের চেয়ে এ হিসাব ১১০ কোটি টাকা কম।

কোম্পানিটির কয়েকটি সার্ভিস সেন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়ের হিসাব অনুসারে ফেনী সার্ভিস সেন্টার ১৮ কোটি ১৯ লাখ, বাঞ্ছারামপুর ৬ কোটি ৩৭ লাখ, কক্সবাজার ৭ কোটি ৩৯ লাখ, চট্টগ্রাম ৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৪ কোটি ৪ লাখ, গাইবান্ধা ৫ কোটি ৬ লাখ, সাতক্ষীরা ৩ কোটি ৮৮ লাখ, দিনাজপুর ৬ কোটি ৩৪ লাখ, হাটহাজারী ৩ কোটি ৪৭ লাখ এবং ওভারসীজ ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় করে। এ হিসাবে উক্ত ১০টি সার্ভিস সেন্টার থেকে ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় সর্বমোট ৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফেনী ১৮ কোটি ৪৩ লাখ, বাঞ্ছারামপুর ৬ কোটি ৫৪ লাখ, কক্সবাজার ৭ কোটি ৭৮ লাখ, চট্টগ্রাম ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং মাইজদী ১১ কোটি ৬৫ লাখ, চাঁদপুর ৯ কোটি ৬৯ লাখ, কেরাণীরহাট ৯ কোটি ১৮, সিলেট ৮ কোটি ১৭ লাখ, লক্ষ্মীপুর ৭ কোটি ৩৪ এবং বরিশাল ৭ কোটি ৩ লাখ টাকা ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় করে। ৫ ফেব্রুয়ারিতে উপরোক্ত সেন্টার থেকে ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম আয় সর্বমোট ৯৫ কোটি টাকা।

এদিকে পেছনের তারিখে পলিসি করায় এসব গ্রাহক ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন বীমা সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব পলিসি বেশ কিছু আইনি জটিলতা সৃষ্টি করবে। বীমা কোম্পানি অবগত থাকছে যে এসব পলিসিতে দেয়া তারিখ প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা। যদি কোন পলিসির মৃত্যুদাবি ওঠে তখন তারিখের এ মিথ্যাচার দেখিয়ে দাবিটি নাকচ করে দেয়ার সুযোগ পাবে কোম্পানি। এর ফলে গ্রাহকস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। প্রকৃত পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে গ্রাহকরা।

আইডিআরএ দেখানো হিসাবের এ ঘাটতি পূরণ করতেই পেছনের তারিখ দেখিয়ে পলিসি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারইষ্ট।

এ সম্পর্কে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর এক চিঠিতে আইডিআরএ জানায়, “তাছাড়া ২০১৭ সালে প্রদর্শিত ১ম বর্ষ ব্যবসার বিপরীতে ব্যাংক জমা অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের মধ্যে হতে হবে এবং ১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের পর প্রদর্শিত ব্যাংক জমা ২০১৮ সালের ব্যবসা হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয়ের বিপরীতে কালেকশন ইন হ্যান্ড/ ক্যাশ ইন ট্রানজিট/কালেকশন কন্ট্রোল এ্যাকাউন্ট/ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল এ্যাকাউন্ট শিরোনামে কোন অর্থ প্রদর্শন করা যাবে না।”