বীমা একটি মহৎ পেশা: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমাকে একটি মহৎ পেশা বলে মন্তব্য করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)'র চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। আজ সোমবার রাজধানীতে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দাবি পরিশোধ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, উন্নত দেশে বীমার অবদান সবচেয়ে বেশি। এই মুহুর্তে আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান একেবারেই নেই। কিন্তু আমরা জোর দিয়েছি। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হই। এভাবে বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়। তাহলে বীমা খাত জাতীয় অর্থনীতিতে অনেক ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পপুলার লাইফের জন্য নয়, আইডিআএ'র জন্যও। তিনি বলেন, আমাদের ভিশন দু'টি। ইমেজ সংকট ও আস্থাহীনতা দূর করা। বীমার কথা বললে অনেকে লাফ দিয়ে ওঠে। নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা করে। তাই গ্রাহকের অনাস্থা দূর করা আমাদের কাজ।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যারা আইডিআরএ আছি- এনকারেজ করছি, যেসমুস্ত কোম্পানি দাবি পরিশোধের অনুষ্ঠান করবে আমারা নিজেরা উপস্থিত থাকবো উৎসাহ প্রদান করার জন্য। তিনি বলেন, আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান তার স্বাক্ষ্য। এখানে মহিলাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। কাজেই এটা বীমার জন্য পজিটিভ।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ'র চেয়ারম্যান বলেন, আমি অনুরোধ করবো আমাদের যে ৭৬/ ৭৮টি বীমা কোম্পানি আছে- সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে বীমা ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। তাহলে আর বীমা শব্দটি শুনলে কেউ আর খারাপ কিছু বলতে পারবে না।

আস্থাহীনতাকে বীমা খাতের সমস্যা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আস্থাহীনতা দূর করতে আমরা দাবি পরিশোধে জোর দিয়েছি। এখন বীমা দাবি পরিশোধ হচ্ছে। তিনি বলেন, আইডিআরএ'তে একটা সেল করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হলে যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি সরাসরি ওই কোম্পানিকে ডাকেন। এতে কাজ হচ্ছে বলেও জানান পাটোয়ারী।

দেশের বীমা খাতকে জোরদার করার জন্য এবং অনলাইনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প পাওয়া যাবে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান। এটা খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সকল কোম্পানি অনলাইনে যুক্ত হবে। ফলে আইডিআরএ বসেও কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে বলেন, সরকার বীমা খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না, সেটা করেছে সরকার। বীমা খাতে যে আস্থাহীনতা ছিল তা অনেক দূর তিরোহীত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

পপুলার লাইফের ১০ হাজার ১১৬ গ্রাহকের দাবি পরিশোধের কথা উল্লেখ করে মানিক চন্দ্র দে বলেন, এভাবে চেক বিতরণ বাংলাদেশে প্রথম। এটা একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, আস্থাহীনতা যত দূর হবে বীমার তত উন্নয়ন হবে। মানুষ বীমা করে টাকা বৃদ্ধির জন্য নয়, বিপদে ঝুঁকি গ্রহণের জন্য।

মানিক চন্দ্র দে বলেন, সারা পৃথিবী বীমা ছাড়া কিছুই বোঝে না। প্রত্যেকটি কাজে তারা বীমা করে। তারা একটি চশমার পর্যন্ত বীমা করে। তাহলে আমরা কেন জীবনের বীমা করব না, ফসলের বীমা করব না। তিনি বলেন, মানুষ চায় যে টাকা দিয়ে বীমা করবে সে টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা।

আইডিআরএ'র সদস্য গকুল চাঁদ দাস বলেন, পাবলিক অনুষ্ঠানে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হলে বীমা সম্পর্কে মানুষের ধারণা পাল্টে যাবে। সামগ্রীকভাবে বীমা শিল্পের জন্য ইতিবাচক হবে। বীমা ব্যাপারে যে অস্পষ্টতা আছে সে অস্পষ্টতা দূর হবে বলেও মন্তব্য করেন।

সরকার কৃষি বীমা, স্কুল বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, প্রবাসী বীমা চালু করতে যাচ্ছেন বলে জানান গকুল চাঁদ। এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০২১ ও ২০৪১ সালের জন্য যে রূপকল্প আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা। একইসঙ্গে সামাজিক উন্নয়ন ও এসডিজি'র অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ'র নির্বাহী পরিচালক খলিল আহমদ বলেন, দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে বাংলাদেশের বীমা জগতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়েছে পপুলার লাইফ। কোম্পানিটি বিগত দিনগুলোতে সর্বমোট ২ হাজার ৭৯৮ কোটি ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৩ টাকা দাবি পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ সরকার কৃষি বীমা, গবাদি পশুর বীমা এবং ব্যাংক্যাসুরেন্স চালু করতে যাচ্ছে বলেও জানান খলিল আহমদ। তিনি বলেন, এখন মহিলারা বীমা নিচ্ছে। এটা ধনাত্মক সাইন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতিদের ৮০ শতাংশই মহিলা উল্লেখ করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান খলিল আহমদ।