বীমা আইনের ত্রুটি খুঁজতে কমিটি হচ্ছে: আইডিআরএ চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা আইন ২০১০ এ কি কি ত্রুটি আছে তা খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করা হবে, এমন ঘোষণা দিলেন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। বীমাকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এ কমিটি গঠনের কথা জানান।
একই সঙ্গে বীমাখাতের উন্নয়নে অতিরিক্ত এজেন্ট কমিশনসহ অন্যান্য অনৈতিক প্রতিযোগীতা বন্ধের আহবান জানান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান। এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি’র সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশেন (বিআইএ) “বাংলাদেশের বীমা শিল্পের বর্তমান অবস্থা: বিরাজমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান” শীর্ষক এ গোলটেবিল আয়োজন করে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বিআইএ মিলনয়াতনে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট ও সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বীমাখাতের সমস্যা অনেক পুরোনো। বীমার প্রতি গ্রাহকদের অনাস্থা ও ইমেজ সংকট রয়েছে। এই দুটো দূর করার উদ্যোগ নিয়েছি। বীমাখাতের উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ- এ দুটো বিষয়েই কাজ করছি। এ জন্য প্রচারণার প্রয়োজন। বীমা মেলা করেছি, কোম্পানির দাবী পরিশোধ অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। যাতে ব্যাপক প্রচারণা পায়।
তবে কোম্পানিগুলোর কিছু আনএথিক্যল প্র্যাকটিস রয়েছে। সবাই মিলে এ অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। আপনারা এসব অনৈতিক কাজ বন্ধের জন্য আমাদের এজাজত দিয়েছেন। এ বিষয়ে কঠোর হবে আইডিআরএ, বললেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান।
তিনি আরো বলেন, বীমা আইনে কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে। সেটা সমাধানের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে যাব। একটা সমস্যা নিয়ে তো যাওয়া যায় না, তাই সমস্যার প্যাকেজ নিয়ে যাবো মন্ত্রণালয়ে। বীমানীতির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এ ব্যর্থতা সবার-ই বলেও মন্তব্য করেন।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ৪০টির মতো বিধিমালা করা দরকার। আমরা অর্ধেকের মতো করে ফেলেছি। কিছু পাইপলাইনে আছে। আমরা আশাবাদি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা এগুলো করবো। এগুলো করতে পারলে আমরা আমাদের বীমা আইনটা পুরোপুরি কার্যকর করতে পারবো।
শফিকুর রহমান বলেন, জিডিপি'তে বীমাখাতের অবদান দশমিক ৬৭ শতাংশ। এটা খুবই নগণ্য। জিডিপি'তে বীমাখাতের অবদান বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বীমা শিল্পকে গতিশীল করতে চাই। এটি একটি মহৎ পেশা, এটা সবাইকে বুঝাতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিআইএ’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাসির এ চৌধুরী, জীবন বীমা করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন একচ্যুয়ারি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরামর্শক দাস দেব প্রসাদ, বিআইএ’র সেমিনার সাব-কমিটির আহবায়ক কাজী মো. মোরতুজা আলী।
আলোচনায় অংশ নেন জীবন বীমা করপোরেশন'র চেয়ারম্যান ড. শেলিনা আফরোজা, সাধারণ বীমা করপোরেশন'র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়েত উল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে, আইডিআরএ’র সদস্য গকুল চাঁদ দাস ও বোরহান উদ্দিন, বিআইএ'র প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর রুবিনা হামিদ, বিআইএ'র ভাইস-প্রেসিডেন্ট একেএম মনিরুল হক, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, মেঘনা লাইফ কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর মূখ্য নির্বাহি ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম'র প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী, রুপালী ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিকে রায় এফসিএ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির চীফ ফ্যাকাল্টি সদস্য এসএম ইব্রাহিম হোসেন এবং ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি'র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু।