প্রিমিয়াম আয় ৯১ কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্তরা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি
আবদুর রহমান: থার্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্সের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ২০১২ সালে বীমা দাবি পেয়েছে ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৫ টাকা। অথচ নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর এখাতে প্রিমিয়াম আয় ২০ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ২৯১ টাকা। আবার ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯২২ টাকার বীমা দাবি অপরিশোধিত রয়েছে।
অথচ প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় গড়পড়তা ৫ হাজার মানুষ। আহত হয় গড়ে ৮ হাজার মানুষ। এতে থার্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্সের আএতায় বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় শত কোটি টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র সর্বশেষ তথ্য অনুসারে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে (আইডিআরএ)’র কাছে সর্বশেষ ২০১২ সাল পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। যদিও থার্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্স নামে পরিচিত মোটর অ্যাক্ট লাইয়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। মোটর ভেহিকল অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ তে বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক প্রতিটি যানবাহনের জন্য অ্যাক্ট লাইয়বিলিটি বা থার্টপার্টি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়।
আইডিআরএ’র সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি (সিআরসি)’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে থার্ট পার্টি ইন্স্যুরেন্সের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা বীমা দাবি পেয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৬ টাকা। এ সময়ে প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৬ টাকা।
২০০৮ সালে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯ টাকা। বছরটিতে মোট বীমা দাবি উত্থাপন হয়েছে ৭৮ লাখ ১ হাজার ৮৯০ টাকা। এরমধ্যে পরিশোধ হয়েছে ৫০ লাখ ১১ হাজার ৮৯০ টাকা। অপরিশোধিত রয়েছে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
২০০৯ সালে কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয় হয় ১৭ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫৬ টাকা। অলোচ্য বছরে বীমাকারীদের কাছে সর্বমোট বীমা দাবি উত্থাপন হয় ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১০৩ টাকা। এরমধ্যে পরিশোধিত দাবির পরিমাণ ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৬০৩ টাকা। অপরিশোধিত রয়েছে ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫শ’ টাকা।
আর ২০১০ সালে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো এখাতে প্রিমিয়াম আয় করে ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮১৬ টাকা। বছরটিতে মোট বীমা দাবি উত্থাপন হয়ে ১ কোটি ২৭ লাখ ৮ হাজার ৬৫৭ টাকা। এরমধ্যে দাবি পরিশোধ হয়েছে ৯৯ লাখ ৩ হাজার ৪৬ টাকা। অপরিশোধিত রয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৬১১ টাকা।
২০১১ সালে এখাতে কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ৯৫৫ টাকা। অলোচ্য বছরে বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে বীমা দাবি উত্থাপন হয় সর্বমোট ৯১ লাখ ৮২ টাকা। এরমধ্যে পরিশোধিত দাবির পরিমাণ ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩২ টাকা। অপরিশোধিত রয়েছে ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯২২ টাকা।
সর্বশেষ ২০১২ সালের তথ্যে দেখা গেছে, বীমা কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় ২০ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ২৯১ টাকা। বছরটিতে সর্বমোট দাবি উত্থাপন হয় ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৭ টাকা। এরমধ্যে দাবি পরিশোধের পরিমাণ ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৫ টাকা। আর অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯২২ টাকা।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার ওপর জরিপ ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১২ সালে সারাদেশে ২০ হাজার ৮০৮টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ২১ হাজার ২৫১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ৩২ হাজার ৮৩০ জন।
এরমধ্যে ২০০৮ সালে ৪ হাজার ৮৬৯টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৬৫ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২৩৩ জন আহত হয়েছেন। ২০০৯ সালে ৩ হাজার ৫৬টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৫৮ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন। ২০১০ সালে ৩ হাজার ১০৭টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৪৬ জন নিহত ও ১ হাজার ৮০৩ জন আহত হয়েছেন।
আর ২০১১ সালে ৪ হাজার ৯৫৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ৯২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৩০ জন। ২০১২ সালে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৮১৭টি দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৯৫৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৯০৮ জন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে নিটোল ইন্স্যুরেন্সের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এসএম মাহবুবুল করিম ইন্স্যুরেন্সনিউজবিডি’কে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের তুলনায় বীমা দাবি কম পরিশোধ হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক সময় সঠিকভাবে বীমা দাবি উত্থাপন হয় না, যার কারণে দাবি দিতে পারে না কোম্পানিগুলো। অনেকে জানেই না কিভাবে বীমা দাবি উত্থাপন করতে হয়।
তিনি আরো বলেন, বীমা দাবি দেয়া হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। অনেক সময় বীমা দাবির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতেই এর চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। এ ছাড়াও রয়েছে পুলিশ কেইস সংক্রান্ত ঝামেলা। এসব জটিলতা ও ব্যয়ের কারণে মানুষ দাবি উত্থাপনে আগ্রহ হারায়।