রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স গাইডলাইনে ১৩ বিষয়ে সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স গাইডলাইন সংশোধন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। রোববার (১ মার্চ) জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৩ সালে প্রণীত গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরিবর্তিত বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গাইডলাইনটি যুগোপযোগী করা হয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এর ১৫(প) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং গাইডলাইনের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত গাইডলাইন জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, মোট ১৩টি বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিষয়গুলো হলো-

১. মুখবন্ধ প্রতিস্থাপন:
গাইডলাইনের মুখবন্ধ নতুনভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এতে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, এআই ও বিগ ডেটার ব্যবহার এবং বীমা খাতে উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

২. অনুচ্ছেদ ৩(৩) – ‘রেগুলেটরি স্যান্ডবক্স’-এর সংজ্ঞা সংশোধন:
নতুন সংজ্ঞায় উদ্ভাবনী বীমা পণ্য বা সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৩. অনুচ্ছেদ ৪(খ) সংশোধন:
ইনশিওরটেক/স্টার্টআপ/ফিনটেক প্রতিষ্ঠান বীমাকারীর সঙ্গে চুক্তির আওতায় থাকলে স্যান্ডবক্স কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে- এ বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

৪. অনুচ্ছেদ ৫ – আবেদনের ক্ষেত্র প্রতিস্থাপন:
বীমা পরিকল্প উদ্ভাবন, পণ্য বিপণন (ই-কমার্সসহ), দাবি নিষ্পত্তি, আন্ডাররাইটিং এবং অন্যান্য নির্ধারিত সেবায় সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

৫. অনুচ্ছেদ ৬ – আবেদন যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিস্থাপন:
বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা প্রয়োগে সাফল্যের স্বীকৃতি রয়েছে- এমন প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে।

৬. অনুচ্ছেদ ৭ – (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন/পরিমার্জন):
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত বিধান হালনাগাদ করা হয়েছে।

৭. অনুচ্ছেদ ৮ – (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন/পরিমার্জন):
কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম অনুমোদনের কাঠামো পরিমার্জন করা হয়েছে।

৮. অনুচ্ছেদ ৯ – (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন/পরিমার্জন):
পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের শর্তাবলি স্পষ্ট করা হয়েছে।

৯. অনুচ্ছেদ ১০ – (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন/পরিমার্জন):
অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত শর্ত ও দায়বদ্ধতা হালনাগাদ করা হয়েছে।

১০. অনুচ্ছেদ ১১ – অনুমোদনের সময়কাল প্রতিস্থাপন:
প্রাথমিক অনুমোদন তিন বছরের জন্য বলবৎ থাকবে—এটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

১১. অনুচ্ছেদ ১২ – অনুমোদনের নবায়ন প্রতিস্থাপন:
মেয়াদ শেষে কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি পঞ্জিকা বছরের জন্য অনুমোদন নবায়নের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

১২. অনুচ্ছেদ ১৪ – তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রতিস্থাপন:
ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন, ছয় মাসের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন এবং পরীক্ষা শেষে ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১৩. অনুচ্ছেদ ১৫ – অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিস্থাপন:
সিস্টেমের অখণ্ডতা রক্ষা, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত এবং কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত গাইডলাইনটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।