ম্যানুলাইফ হংকং আনল দুটি অংশগ্রহণমূলক সেভিংস প্ল্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হংকংয়ের সঞ্চয় ও সম্পদ পরিকল্পনার বাজারে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী চাহিদাকে সামনে রেখে ম্যানুলাইফ হংকং দুটি নতুন অংশগ্রহণমূলক লাইফ ইন্স্যুরেন্স-বেইজড সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু করেছে। নতুন এই পণ্য দুটি- জেনেসিস সেন্টুরিয়ন ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান এবং প্রেস্টিজ অ্যাচিভার ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান- গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠন, প্রয়োজনমতো সঞ্চয় থেকে অর্থ উত্তোলন এবং বড় জীবনঘটনায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়াবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘায়ু ও অবসর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির আর্থিক অভিঘাত মোকাবিলায় হংকংয়ে সঞ্চয়কে আরও নমনীয়ভাবে ব্যবস্থাপনার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে- ম্যানুলাইফের এই উদ্যোগ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
ম্যানুলাইফ হংকং ও মাকাওয়ের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার কেসি চ্যাং বলেছেন, নতুন দুটি পরিকল্পনা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে গ্রাহকরা সঞ্চয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পান এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সহায়তা পেতে পারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক গ্রাহক একদিকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা চান, অন্যদিকে হঠাৎ প্রয়োজন কিংবা জীবনপরিবর্তনের সময় সঞ্চয় থেকে সহজে অর্থ তোলার সুযোগও চান। ম্যানুলাইফের দাবি, এ দুটি পণ্য সেই ‘সঞ্চয়’ ও ‘প্রবেশাধিকার’-এর সমন্বিত চাহিদা পূরণে কার্যকর হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক ম্যানুলাইফ এশিয়া কেয়ার সার্ভে- এর ফলও এই পণ্য উন্মোচনে প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। জরিপ অনুযায়ী, হংকংয়ের ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে আর্থিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং ৬১ শতাংশ মনে করেন শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বীমা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ম্যানুলাইফের মূল্যায়নে, এই তথ্যগুলো দেখায় যে গ্রাহকের কাছে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এখন পরস্পর-সংযুক্ত; ফলে সঞ্চয় পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যঝুঁকির সময় সহায়তার উপাদান যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নতুন পরিকল্পনার মধ্যে জেনেসিস সেন্টুরিয়নকে ম্যানুলাইফ দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের পণ্য হিসেবে অবস্থান দিয়েছে। এটি তাদের বিদ্যমান জেনেসিস প্ল্যান-এর সম্প্রসারিত সংস্করণ, যেখানে আগে মূলত মধ্যমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সমাধান দেয়া হতো। ম্যানুলাইফ বলছে, ‘জেনেসিস সিরিজ’-এর এই সম্প্রসারণ গ্রাহকদের বিভিন্ন জীবনপর্যায় ও লক্ষ্য অনুযায়ী আরও বেশি বিকল্প দেবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, জেনেসিস সেন্টুরিয়নে সম্ভাব্য সারেন্ডার ভ্যালু ২৫তম পলিসি বছরে মোট প্রদত্ত প্রিমিয়ামের প্রায় চার গুণ, ৩১তম বছরে প্রায় ছয় গুণ, এবং ৩৫তম বছরে প্রায় আট গুণ পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এগুলো প্রকল্পিত মান এবং অংশগ্রহণমূলক পণ্যের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বোনাস ও রিটার্ন বাজার ও কোম্পানির পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল, তবুও এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি গুণিতক প্রক্ষেপণ ম্যানুলাইফের পণ্যটির মূল বার্তা- ‘সময়ের সঙ্গে সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা’-কে সামনে আনে।
জেনেসিস সেন্টুরিয়নের আরেকটি বড় দিক হলো বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতায় বহুমুদ্রা পরিকল্পনার সুযোগ। গ্রাহকরা সাতটি পলিসি কারেন্সি থেকে বেছে নিতে পারবেন এবং তৃতীয় পলিসি বার্ষিকী থেকে বছরে একবার কারেন্সি পরিবর্তন করতে পারবেন। শিক্ষা, অভিবাসন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কিংবা ভবিষ্যৎ ব্যয়ের কথা বিবেচনায় যারা ভিন্ন মুদ্রায় সম্পদ পরিকল্পনা করতে চান, তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তবে শুধু দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি নয়, প্রয়োজনের সময় তারল্য নিশ্চিত করতেও জেনেসিস সেন্টুরিয়নে একাধিক উত্তোলন সুবিধা রাখা হয়েছে। পলিসি সারেন্ডার না করেই গ্রাহকরা নিয়মিত আয়ের বিকল্প ব্যবহার করতে পারবেন অথবা টার্মিনাল বোনাস থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড উইথড্রয়াল করতে পারবেন। স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রে পণ্যটির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- বীমাকৃত ব্যক্তি যদি নির্ধারিত কোনো গুরুতর রোগ বা মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, তাহলে একবারের জন্য টার্মিনাল বোনাসের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে। ম্যানুলাইফের মতে, এটি সংকটের সময় আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক, কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রেস্টিজ অ্যাচিভার পরিকল্পনাটি তুলনামূলকভাবে নিকটমেয়াদি নিরাপত্তা ও দ্রুত নগদ মূল্য গঠনে গুরুত্ব দিয়েছে। ম্যানুলাইফ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় পলিসির প্রথম দিন থেকেই মোট প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত গ্যারান্টিড ক্যাশ ভ্যালু পাওয়া যেতে পারে। বাজারে যখন অনেক গ্রাহক শুরুতেই দৃশ্যমান নিশ্চয়তা দেখতে চান, তখন এই ধরনের গ্যারান্টিড কাঠামো মানসিক স্বস্তি এবং পরিকল্পনার ওপর আস্থা তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, প্রেস্টিজ অ্যাচিভারে ১০ম পলিসি বছরের শেষে প্রকল্পিত মোট ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (আইআরআর) সর্বোচ্চ ৪.৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যদিও প্রকল্পিত রিটার্নের একটি অংশ নন-গ্যারান্টিড উপাদানের ওপর নির্ভরশীল, তবুও ১০ বছরের সময়সীমাকে সামনে রেখে এ ধরনের রিটার্ন প্রক্ষেপণ নিকটমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে আগ্রহী গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে পারে।
প্রেস্টিজ অ্যাচিভারেও পলিসি বহাল রেখে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা রয়েছে। দ্বিতীয় পলিসি বছর থেকে নিয়মিত নন-গ্যারান্টিড আয়ের সুযোগ মিলবে এবং টার্মিনাল বোনাস থেকে নমনীয়ভাবে অর্থ নেয়া যাবে। একই সঙ্গে জেনেসিস সেন্টুরিয়নের মতো এখানেও নির্ধারিত গুরুতর রোগ কিংবা মানসিক অসুস্থতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে টার্মিনাল বোনাস-সংযুক্ত বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ম্যানুলাইফ বলছে, এই সমন্বিত নকশা গ্রাহকের আর্থিক লক্ষ্য এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির অনিশ্চয়তাকে একই পরিকল্পনার মধ্যে এনে বাস্তবসম্মত সমাধান দেয়। (ইন্স্যুরেন্স এশিয়া)




