বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নাগরিক অস্থিরতা: ২০২৬ সালে বীমা খাতে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দাঙ্গার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ২০২৬ সালে এই অস্থিরতা আগের বছরের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যার ফলে বীমা শিল্প বা বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলার ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এই ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমা কোম্পানিগুলোকে পলিসির পুনর্মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন ভ্যারিস্ক ম্যাপলক্রফটের বিশেষজ্ঞ টরবজর্ন সোল্টভেড।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির ফলে বীমা কোম্পানিগুলো এখন সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। অনেক কোম্পানি সাধারণ পলিসি থেকে নাগরিক অস্থিরতাজনিত ধর্মঘট, দাঙ্গা নাগরিক অস্থিরতাজনিত ঝুঁকির ক্ষয়ক্ষতি সাধারণ বীমা পলিসি থেকে বাদ দিচ্ছে। অথবা প্রিমিয়ামের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এর ফলে মাঝারি ও বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক সহিংসতাকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এ্যালায়েন্স রিক্স ব্যারোমিটার ২০২৬।
আন্তর্জাতিক ঝুঁকি গবেষণা সংস্থা ভ্যারিস্ক ম্যাপলক্রফটের নাগরিক অস্থিরতা ইনডেক্স অনুসারে, নাগরিক অস্থিরতার ৬টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আদর্শিক বিভেদ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকট, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত জনমত গঠন ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং যুদ্ধবিগ্রহজনিত অনিশ্চয়তা।
হাউডিন রি এর তথ্যমতে, ২০১৩ সালে দাঙ্গা বা অস্থিরতাজনিত বীমা দাবির পরিমাণ ছিল নগণ্য। তবে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
২০২০ সালে যুক্ত রাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এর আগে ২০১৯ সালে চিলিতে মেট্রো ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতি হয় ১.৭ বিলিয়ন ডলার।



