২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব কার্যক্রমে নেট-জিরো লক্ষ্য ঘোষণা আলিয়াঞ্জের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বীমা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আলিয়াঞ্জ এসই। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের প্রথম নেট-জিরো ট্রানজিশন পরিকল্পনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৫০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ ও সম্পত্তি-দায় (পি অ্যান্ড সি) আন্ডাররাইটিং পোর্টফোলিওতে নেট-জিরো নির্গমন অর্জনের অঙ্গীকার করেছে। আর নিজস্ব কার্যক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যেই নেট-জিরোতে পৌঁছাতে চায়।

আলিয়াঞ্জ জানিয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব কার্যক্রমে ৭০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো হবে। স্কোপ ১, ২ ও প্রাসঙ্গিক স্কোপ ৩ নির্গমন এতে অন্তর্ভুক্ত। ২০২৩ সালের মধ্যেই ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার, ২০২৫ সালের মধ্যে ব্যবসায়িক ভ্রমণজনিত নির্গমন ৪০ শতাংশ হ্রাস এবং ২০৩০ সালের মধ্যে করপোরেট গাড়ি বহর সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট নির্গমন উচ্চমানের কার্বন অপসারণ পদ্ধতিতে সমন্বয় করা হবে।

২০২২ সালের হিসাবে আলিয়াঞ্জ প্রায় ৭০৭ বিলিয়ন ইউরোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত শেয়ার ও কর্পোরেট বন্ডে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নির্গমন কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। অবকাঠামো ও প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগেও নির্গমন ঘনত্ব অর্ধেকে নামানো হবে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ইউরো জলবায়ু সমাধানে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহন ও সবুজ ভবন খাত এতে অগ্রাধিকার পাবে।

বাণিজ্যিক বীমা খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নির্গমন ঘনত্ব কমানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ইউরোপের নয়টি দেশে খুচরা মোটর বীমায় ৩০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমানো হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ বীমা পণ্য ও প্রণোদনা দেয়া হবে।

আলিয়াঞ্জের বোর্ড সদস্য গুন্থার থালিঙ্গার বলেন, ‘আমাদের এই পরিকল্পনা ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে এবং আর্থিক খাতে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বার্তা দিচ্ছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাটি উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবায়নে তথ্যপ্রাপ্তি ও নীতিগত সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবু আলিয়াঞ্জের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক বীমা শিল্পে টেকসই রূপান্তরের পথে শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।