আইডিআরএকে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের অনিয়ম অভিযোগ ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘন ও আইনভঙ্গের অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) আবেদনকারীদের দাখিল করা অভিযোগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে হলফনামার মাধ্যমে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি ম্যাটার নং-৭১৮/২০২৬ মামলায় ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের বিষয়ে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আইডিআরএতে জমা দেয়া অভিযোগ আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পরে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে আইডিআরএ।

মামলার শুনানিতে আদালত আবেদনকারীদের সম্পূরক হলফনামাকে মূল আবেদনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে, যাতে তারা ব্যাখ্যা দিতে পারেন কেন আবেদনটি গ্রহণ করা হবে না। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

এর আগে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক জি. বি. হোসেন আইডিআরএর কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই কিছু উদ্যোক্তা পরিচালককে অপসারণ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা, অতিরিক্ত শেয়ার ধারণ, কোম্পানির অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, বোর্ড সভা ও মিটিং ফি সংক্রান্ত অসঙ্গতি, আর্থিক প্রতিবেদনে সমস্যা এবং শরিয়াহ কাউন্সিলের কার্যক্রমে ঘাটতির মতো বিষয় রয়েছে।

এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত, পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আর্থিক কার্যক্রমের ফরেনসিক অডিটের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে আদালত এখনো অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। আইডিআরএর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে আবেদনকারীদের পক্ষে নিয়োজিত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, বীমা শিল্পে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক, এটাই তিনি আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করেন।

বীমা খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বীমা খাতে কর্পোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।