পুঁজিবাজারে আসছে ভারতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পুঁজিবাজারে আসছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (এনআইসি) । এরইমধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে কোলকাতা ভিত্তিক এই বীমা প্রতিষ্ঠান। আগামী ৩১ মার্চ তথা চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে আইপিও চালু করবে।

আইপিও অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে আবেদনের পূর্বে কোম্পানিটি গত অর্থবছরের ব্যালান্স শিট প্রস্তুত করেছে। ব্যালান্স শিট অনুসারে, গত বছর কোম্পানিটির সলভেন্সি মার্জিন আগের অর্থ বছরের চেয়ে অগ্রগতি লাভ করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের সলভেন্সি মার্জিন ১.২৬ থেকে বেড়ে ১.৯০ দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের পূর্বে ভারতে আরো দু'টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রস্তাবিত আইপিও কেনাবেচা করার জন্য ব্যাংকার্স নিয়োগ করেছে। কোম্পানি দু'টি হলো জিআইসি রি এবং নিউ ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্স। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে আসতে চাওয়া রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স তৃতীয়।

এরআগে ভারতের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৫টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার অনুমোদন দেয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া এবং ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’র নিয়মানুসারে কোম্পানিগুলোতে সরকারের মালিকানা ১০০ ভাগ থেকে ৭৫ ভাগের মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।

ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে সনৎ কুমার বলেছেন, আইপিও'র অনুমোদনের জন্য আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, এই অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অথবা পরবর্তী অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হবে।

ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোম্পানিটি ট্যাক্সসহ ৪৯ কোটি রুপি নেট মুনাফা করেছে। এরআগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি রুপি। রিজার্ভ চাহিদা অনুসারে কোম্পানিটির এই মুনাফা খুবই কম। তবে থার্ড পার্টি মোটর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি রিজার্ভের পরিমাণ কম রাখার কারণে কোম্পানিটির পরামর্শক অ্যাকচ্যুয়ারির সদস্যপদ বাতিল করেছে। কোম্পানিটির ৩১ মার্চ, ২০১৬ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, রিজার্ভের পরিমাণ কম রাখার কারণে ভবিষ্যতে কোম্পানিটির প্রয়োজনের তুলনায় রিজার্ভে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি রুপি ঘাটতি পড়বে।

তবে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সনৎ কুমার বলেছেন, আগামী দু'বছরে আমাদেরকে রিজার্ভে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭৭১ কোটি রুপির যোগান দিতে হবে। এরইমধ্যে লোকসান বৃদ্ধিকারী গ্রুপ হেলথ পলিসি কমানো শুরু হয়েছে বলেও জানান কুমার।

বর্তমানে কোম্পানিটির প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ৯ হাজার ৫৪৪ কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে। কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় ১৮.৮ শতাংশ বেড়ে অর্থবছরের শেষে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৮২ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। (সূত্র: ইটি)